ফের রাজ্য সরকারকে খোঁচা রাজ্য়পাল জগদীপ ধনখড়ের। আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে এবার মমতার সরকারকে খোঁচা দিলেন রাজ্যপাল। এদিন রাজ্যপাল বলেন, রাজ্যে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা ভাবমূর্তি তৈরি হয়ে রয়েছে, যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। 

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোতে গিয়েও বরফ গলল না সম্পর্কে। ফের রাজ্য সরকারকে খোঁচা দিলেন রাজ্যপাল। রাজ্য়ে বিগত দিনের নির্বাচন নিয়ে মমতার সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে ছাড়লেন না রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। এক অনুষ্ঠানে ধনখড় বলেন, সামনেই রাজ্যে বিধানসভা উপনির্বাচন। অতীতের নির্বাচন দেখে মানুষের মনে একটা ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে। আমাদের আগামী নির্বাচনে সেই ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেখতে হবে সামনের নির্বাচনে মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে। প্রত্যেক ভোটারের ভোট দেওয়ার অধিকার সাংবিধানিক অধিকার আমাদের সুরক্ষিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গের একটা মান রয়েছে। সেই মানকে অক্ষুন্ন রাখতে আমাদের সব ধরনের চেষ্টা করতে হবে। আশা করি, আগামী উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে হিংসা দেখতে পাওয়া যাবে না। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবেন।

রাজ্যপালের এই মন্তব্য প্রকাশ্য়ে আসার পরই শুরু হয়েছে তোলপাড়। রাজ্যপালের বক্তব্যের সমর্থনে নেমেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, রাজ্যপালের বক্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন করছি। পঞ্চায়েত নির্বাচন ছাড়াও অতীতের  নির্বাচনে রাজ্যবাসী অবাধে ভোট দিতে পারেননি। জোর করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে গণতন্ত্র নেই বলেই এই সব হচ্ছে। 

রাজ্যের সাম্প্রতিক অতীত বলছে, যাদবপুরে বাবুল সুপ্রিয় উদ্ধারকাণ্ডে নামার পর থেকেই রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চরমে উঠেছে। এমনকী রেড রোডে বিসর্জন কার্নিভালে আমন্ত্রণ পেয়েও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, নিমন্ত্রণ করে ডেকে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। চার ঘণ্টা থাকলেও তাঁর ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়নি টেলিভিশনে। কেন এইভাবে রাজ্যপালের মতো একটা পদকে অপমান করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধনখড়। পরবর্তীকালে অবশ্য ফের মুখ্য়মন্ত্রীর বাড়ির কালীপুজোয় আমন্ত্রণ পান ধনখড়। মমতার নিমন্ত্রণ রক্ষায় কালীঘাটের বাড়িতে যান তিনি। মনে করা হয়েছিল, মমতার আমন্ত্রণে রাজ্য়-রাজ্যপাল সম্পর্কের উন্নতি হবে। কিন্তু দেখা গেল, বাস্তব জীবনে সেরকম কিছু হয়নি।