স্ত্রীকে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষের কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁর স্ত্রীকে জড়িয়ে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বিকৃত রুচির পরিচয় দিয়েছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি দেখার জন্য অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি নিজের মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন রাজ্যপাল। 

গত ১৫ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অভিযোহ করেছিলেন, সাংবিধানিক রীতিনীতি না মেনেই রাজ্যপাল সরকারি অনুষ্ঠানেও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সরাসরি রাজ্যপালের স্ত্রী সুদেশ ধনখড়ের নাম নেননি পার্থবাবু। তিনি বলেছিলেন, 'জনসংযোগ করার জন্য দু' জনে এখানে এসেছেন। সরকারি বৈঠকে সবসময় আরও একজন থাকবেন কেন? গোপালকৃষ্ণ গাঁধী, এম কে নারায়ণন, কেশরীনাথ ত্রিপাঠী কাউকেই তো এরকম করতে দেখিনি।'

এ দিন নিজেই এই প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় দাবি করেন, একমাত্র কোনও অনুষ্ঠানে তিনি সস্ত্রীক আমন্ত্রিত থাকলে তবেই সেখানে যান তাঁর স্ত্রী সুদেশ ধনখড়। শিক্ষামন্ত্রীর করা এই মন্তব্য তাঁর বিকৃত মানসিকতাকেই  ফুটিয়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেন রাজ্যপাল। 

ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল বলেন, 'মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন মহিলা। আমি তাঁকে অনুরোধ করব বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। যা খুশি তাই আর মিথ্যে কথা বলারও একটা সীমা থাকে। আমন্ত্রিত না থাকলে কখনওই আমার স্ত্রী কোথাও যান না। ব্যক্তিগত পরিসরে এবং জনসমক্ষে তিনি তাঁর সীমাবদ্ধতা রক্ষা করেই চলেন। এই ধরনের অভিযোগ তাঁর পক্ষে খুবই অপমানজনক। আশা করি মন্ত্রী কী বলেছেন, সেটা বুঝতে পারবেন এবং জনসমক্ষে ক্ষমা চাইবেন।' 

উদাহরণ দিয়ে রাজ্যপাল এ দিন বলেন, রাজ্য সরকার আয়োজিত সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রী সুদেশ ধনখড় জাননি। এমন কী বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই অনুষ্ঠানে তাঁর স্ত্রী কেন আসেননি তা জানতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন রাজ্যপাল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কলকাতা সফরের সময় কারেন্সি বিল্ডিং-এর অনুষ্ঠানে আসন বরাদ্দ করা থাকলেও আমন্ত্রণ না থাকায় তিনি তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে যাননি বলে দাবি করেছেন ধনথড়। 

দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল বলেন, 'যেহেতু আমি তাঁর স্বামী, তাই বেশি প্রতিক্রিয়া দিচ্ছি না। কিন্তু এসব যদি তিনি অন্য কোনও মহিলার সম্পর্কে বলতেন তাহলে আমি আরও তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানাতাম। আমি অনুরোধ করব এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আলটপকা মন্তব্য না করতে। এগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়।' শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য মন্তব্য করার সময়ই বলেছিলেন, রাজ্যপাল এবং তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে তিনি যথেষ্টই শ্রদ্ধাশীল।