চন্দ্রকোনায় রেগে গিয়েছিলেন তিনি। রেগে গিয়েছিলেন ভাটপাড়াতেও। রাজনীতির পণ্ডিতরা বলছিলেন, ভুল করছেন মমতা। গঠনমূলক বিরোধিতা কাম্য। এই হুলুস্থূল তাঁর অবস্থান থেকে কাঙ্খিত নয়। দেরিতে হলেও ভুল বুঝতে পারলেন মমতা। তেড়ে গিয়ে, জেলে ভরে নয়, গঠনমূলক ভাবেই বোঝানোর চেষ্টা করলেন, বিজেপির জয় শ্রাীরাম  কেন তাঁর মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠছে। 


রবিবার বিকেলে মমতা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, "আমি সাধারণ মানুষকে জনাতে চাই, ঘৃণা ছড়িয়ে দিতে চাইছে বিজেপি। বিভ্রান্তি তৈরির জন্যে ভুঁয়ো খবর তৈরি করছে। সত্যকে ধামাচাপা দিতে চাইছে তাঁরা।"

তাঁর দাবি সমাজসংস্কারকদের দৌলতে  বাংলা অনেক এগিয়ে থেকছে,কিন্তু  বিজেপির কৌশল বাংলাকে পিছিয়ে দেবে।

মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও দলের রাজনৈতিক শ্লোগান নিয়ে তাঁর মনে কোনও বিরোধাভাস নেই। কিন্তু এই স্লোগান তাঁর মতে উস্কানিমূক কেননা এখানে সুকৌশলে রাজনীতির সঙ্গে ঘৃণা মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 
 

প্রসঙ্গত এদিনই বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং বলেন, "ঠিক করেছি জয় শ্রীরাম লেখা দশ লক্ষ পোষ্টকার্ড পাঠানো হবে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে।" এদিন থেকেই এই কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছে বলে অর্জুন সিং দাবি করেন। তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, প্রত্যেক মানুষ পোষ্টকার্ড কিনে জয় শ্রীরাম লিখে নিজের ঠিকানা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিকানায় পোষ্টকার্ড পাঠানো শুরু করে দিয়েছে। এরপরে দেখি পুলিশ আমাদের কতজনকে গ্রেপ্তার করে। বোঝাই যাচ্ছে, ভাঁটপাড়ার ঘটনায় ১০ জনের গ্রেফতারির বদলা নিতে চাইছেন দুদে রাজনীতিক, সদ্য রং বদলানো অৰ্জুন সিং।  

এই রাজনীতির বিরোধিতা করার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ারটি এতদিনে প্রয়োগ করলেন মমতা। এখন দেখার, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।