পরিষেবার নামে 'ব্যবসা ফাঁদছে' বেসরকারি হাসপাতাল  অহেতুক বিল বাড়ানো হচ্ছে পিপিই ও মাস্কের নামে  মুখ্য়মন্ত্রীর  কানে খবর পৌঁছতেই এ বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা  এ বিষয়ে সাবধান হতে পাঁচ নির্দেশ পাঠাল রাজ্য় সরকার   

রাজ্য়ে কোভিড রোগীদের থেকেও পরিষেবার নামে 'ব্যবসা ফাঁদছে' বেসরকারি হাসপাতাল। রোগীর পরিবারের অভিযোগ, অহেতুক বিল বাড়ানো হচ্ছে পিপিই ও মাস্কের নামে। মুখ্য়মন্ত্রীর কানে খবর পৌঁছতেই এ বিষয়ে কড়া ব্যবস্থা নিল নবান্ন। রাজ্য়ের ২৫টি বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে এ বিষয়ে সাবধান হতে পাঁচ নির্দেশ পাঠাল রাজ্য় সরকার। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জানা গিয়েছে, রোগীর পরিবারের পাশে খোদ বেসরকারি হাসপাতালের এই অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাসক দলের মন্ত্রীরাই। এ বিষয়ে মুখ্য সচিবকেও জানিয়েছেন তাঁরা। তাদের দাবি, রাজ্য়ের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে নার্সদের একই মাস্ক তিন-চারদিন পরতে বলা হচ্ছে। একই পিপিই বার বার পরছেন স্বাস্থ্য়কর্মীরা। যদিও কোভিড রোগীর বিলে হাসপাতালে ব্য়বহৃত মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই বাবদ বড়সড় হিসেব ধরাচ্ছেন তারা।

এখানেই শেষ নয়,বহু ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না। বেড থাকলেও বেড নেই বলে ফেরানো হচ্ছে রোগী। কেবল শাসক দলের ঘনিষ্ঠ বা কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেই পাওয়া যাচ্ছে বেড। সম্প্রতি এই নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এরপরই বেসরকারি হাসপাতালের একাংশকে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্য়সচিব রাজীব সিনহা। মুখ্য়সচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্য় সরকারের নির্দেশিকা।

কী কী রয়েছে এই নতুন নির্দেশিকায়

১) রোগীর ওপর হাসপাতালের আনুসাঙ্গিক খরচ চাপাতে পারবে না হাসপাতাল।

২) প্রতিটি রোগীর থেকে চিকিৎসকদের পিপিই বাবদ রোজ টাকা নেওয়া যাবে না।

৩) একই ডাক্তার, নার্স এক ওয়ার্ডের রোগীদের নিশ্চই আলাদা মাস্ক ,গ্লাভস পরে দেখছেন না। তাই প্রত্যেক রোগীর বিলে ওটা বার বার যোগ করা যাবে না।

৪) বেড থাকলে কোনও ভাবেই রোগীদের ফেরানো যাবে না। বেসরকারি হাসপাতালে কত বেড রয়েছে ঘণ্টায় ঘণ্টায় ওয়েবসাইটে তা আপডেট করতে হবে। হাসপাতালের বাইরে ডিসপ্লে করতে হবে। 

৫) কোনও কর্মীর মাইনে কাটা যাবে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের গাইডলাইন মানতে হবে।

এবার থেকে বেসরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে কত বেড খালি আছে সেই তথ্য এগিয়ে বাংলা ওয়েবসাইটে ঘণ্টায় ঘণ্টায় আপডেট করা হবে। রোগীর পরিবারকে জানাতেই এই তথ্য় প্রকাশ করা হবে। সম্প্রতি রাজ্য় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাঁদের করোনার মৃদু উপসর্গ রয়েছে তাঁদের হাসপাতালের পরিবর্তে সেফ হাউসে রাখা হবে। ইতিমধ্য়েই রাজ্য সরকার ১০৪টি সেফ হাউসের ব্যবস্থা করছে।