শাক সবজি-র চড়া দাম নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপরে ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নবান্নে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, সেই বৈঠকেই শাক সবজি-র অগ্নিমূল্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। এর পরই শুক্রবার থেকে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে হানা দিতে শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট দফতরের আধিকারিকরা। 

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের জেরে এমনিতেই শাক সবজি চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে এমনিতেই সবজি-র দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ, সেই সুযোগেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশেষত আলু, পটল, ঝিঙে, কপির মতো সবজি-র দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে। 

জানা গিয়েছে, এই প্রবণতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের নিজেদের বিবেকের কথা শুনতে বলেন। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আছড়ে পড়ার পরেই যেভাবে দাম বেড়েছে, তাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

ওই বৈঠক থেকেই এনফোর্সমেন্ট দফতরের আধিকারিকদের শুক্রবার থেকে শহরের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে শাক সবজি-র দামের উপরে নজরদারি চালানোর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই এ দিন সকাল থেকে কলকাতার বেশ কয়েকটি বাজারে হানা দেন ইবি আধিকারিকরা। দাম বৃদ্ধির অভিযোগে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে তর্কাতর্কিও বেঁধে যায় তাঁদের। 

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই রাজ্য সরকারের সুফল বাংলা স্টল থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে আলু এবং ৫৯ টাকা কেজি দরে পেয়াঁজ বিক্রি শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা নাফেড-এর সঙ্গে চুক্তি রয়েছে রাজ্য সরকারের। সেই চুক্তি অনুযায়ী ২৫ টাকা কেজি দরে রাজ্যকে পেয়াঁজ সরবরাহ করার কথা। কিন্তু সেই চুক্তি অনুযায়ী পেয়াঁজ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছে নাফেড।

ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, অহেতুক দাম বাড়িয়ে সবজি বিক্রি করলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। ভাঙড়ের মতো শহরের নিকটবর্তী এলাকা থেকে সবজি এনে কলকাতার বাজারে বিক্রি করা যায় কি না, সে বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। দাম বৃদ্ধি রুখতে পুলিশকেও কড়া নজরদারি চালাতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।