নারদকাণ্ডে মুকুল রায়কে নিয়ে সিবিআই সুর চড়াতেই এবার বেসুরো গাইছে বিজেপি। মুকুলের থেকে দূরত্ব রাখতে একে একে ভোল বদলাচ্ছেন দিলীপ, রাহুলরা। যা দেখে মুচকি হাসছে তৃণমূলের একাংশ। যদিও রাজ্য রাজনৈতিক মহল বলছে, মুকুল গ্রেফতার হলে আদতে ক্ষতি মমতার।

নারদাকাণ্ডে সৈয়দ মহম্মদ হোসেন মির্জার গ্রেফতারির পর থেকেই উঁকি দিচ্ছে প্রশ্নটা। এবার কি তবে মুকুল রায়ের পালা? সম্প্রতি আইপিএস মির্জাকে নিয়ে মুকুল রায়ের এলগিন রোডের বাড়িতে আসে সিবিআই। মির্জার অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করে সিবিআই। মির্জার সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। করা হয় ভিডিয়োগ্রাফি। যদিও মুকুল দাবি করেছেন, এ সব তাঁর বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ষড়যন্ত্র। তাঁর ইঙ্গিত,অভিযুক্তদের দিয়ে তাঁর নাম বলাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। যদিও তাঁর দাবি, নারদাকাণ্ডে তাঁকে কোনও টাকা নিতে দেখা যায়নি। তাই এ সবই ষড়য্ন্ত্র।

তবে মুকুল যাই বলুক না কেন, ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতার থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছে দল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, যেমন মুকুলের পাশে দাঁড়ানোর  কোনও বার্তাই দেননি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তদন্তে আদালত যাকে দোষী সাব্যস্ত করবে সেই দোষী। এ নিয়ে আলাদা কিছু বলার নেই। একধাপ গিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা রহুল সিনহা। তিনি বলেন,মুকুল রায় তৃণমূল থেকে বিজেপিতে এসেছেন। 

বিজেপি ব্রিগেডের এই ভোল বদল দেখে ইতিমধ্যেই হাসছে তৃণমূল ভবন। যদিও কালীঘাটের হাওয়া মোরগ বলছে,ঘটনা যেদিকে এগোচ্ছে তা দেখে চিন্তা বাড়বে তৃণমূল নেত্রীর। দলের একাাধিক নেতাকে নারদার স্টিং অপারেশন টাকা নিতে দেখেছে দেশ। সেক্ষত্রে বিজেপির মুকুল গ্রেফতার হলে বাকিদেরও কোনও গতি থাকবে না। একই অভিযোগে তাদেরও গারদে পুরতে পারে সিবিআই। ইতিমধ্যেই টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তৃণমূলের সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার। তবে তা নির্বাচনী তহবিলের জন্য নিয়েছেন বল দাবি করেছেন নেত্রী। কাকলীর দাবি, তিনি যে টাকা নিয়েছেন তার রিসিট নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন। 

লোকসভা ভোটে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় নাম না করে মুকুলকে গদ্দার বলেছিলেন মমতা। রাজ্য রাজনীতির হাওয়া বলছে, এখন সেই গদ্দারের গ্রেফতারি চাইছেন না কালীঘাটের নেত্রী। রাজ্যের সাম্প্রতিক অতীত বলছে,কদিন আগেই দলে কে সর্বেসর্বা তা নিয়ে দ্বন্দ্ব বাধে মুকুল-দিলীপে। সংবাদ মাধ্য়মে মুকুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। মুকুলের থেকে দলে নিশীথ প্রামাণিক, অর্জুন সিংয়ের গুরুত্ব বেশি বলে মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ। যা ঘিরে দিলীপ-মুকুলের দ্বন্দ্ব গড়ায় দিল্লি অবধি। এমনকী খোদ মুকুল রায়কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কে কত বড় নেতা , সেটা মানুষ ঠিক করবেন।  পরে অবশ্য সরকারিভাবে নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, এরকম কোনও ইন্টারভিউ কোনও সাংবাদিককে তিনি দেননি। 

এদিকে মূরলীধর স্ট্রিটের কর্তারা বলছেন, মুকুল চাপে পড়ায় এখন লাভ দেখছে গেরুয়া ব্রিগেড। তাঁদের আশা, নারদাকাণ্ডে মুকুল গ্রেফতার হলে বিজেপির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠবে না। এতদিন তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিবিআইকে কাজে লাগানোর অভিযোগ করত তৃণমূল। নিজেদের নেতা গ্রেফতার হলে সেই অভিযোগের আর বিশ্বাসযোগ্যতা থাকবে না। পাশাপাশি নারদাকাণ্ডের ফুটেজে দেখানো একাধিক তৃণমূলের নেতাকে গ্রেফতার করা যাবে। ফলে চাপ বাড়েছ সৌগত রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়দের ওপর।