অ্য়ান্টি ভেনম কাজই করল না! ফের সাপের কামড়ে বেঘোরে মারা গেলেন এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে খাস কলকাতার শমভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে।

মৃতের নাম নীরদবরণ ঘোষ। বাড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার। গত রবিবার সাপ কামড়ায় নীরদবরণকে। পরিবারের লোকেদের দাবি, চন্দ্রবোড়া সাপ কামড়েছিল। ঘটনার পর তড়িঘড়ি ওই ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় পাঁশকুড়া হাসপাতালে। নিয়মমাফিক নীরদবরণকে অ্যান্টি ভেনম দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি, উল্টে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করে। আর ঝুঁকি নেননি পাঁশকুড়া হাসপাতালে চিকিৎসকরা। নীরদবরণকে কলকাতায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেদিন তাঁকে কলকাতার শমভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সেখানে ফের ওই রোগীকে অ্যান্টি ভেনম দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু নীরদবরণের শারীরিক অবস্থা কোনও উন্নতি হয়নি।  শেষপর্যন্ত ররিবার সকালে মারা যান নীরদবরণ ঘোষ।

কিন্তু দু'বার অ্যান্টি ভেনম দেওয়া সত্ত্বেও রোগীকে বাঁচানো গেল না কেন? তাহলে কী সত্যি অ্যান্টি ভেনম কাজ করেনি? বাস্তবে তেমনটা হলে কিন্তু আশ্চর্যের কিছু নেই। কেন?  এ রাজ্যে অ্যান্টি ভেনম তৈরিই হয় না। কারণ এখানে সাপ ধরা আইনত নিষিদ্ধ। তাই তামিলনাড়ু থেকে অ্যান্টি ভেনম আমদানি করতে হয়।  সর্প বিশারদের বক্তব্য, তামিলনাড়ুতে চন্দ্রবোড়ার সাপের বিষ দিয়ে যে অ্যান্টি ভেনম তৈরি করা হয়, তা এ রাজ্যে চন্দ্রবোড়া সাপের কামড় খাওয়ার রোগীর শরীরে কাজ করে না। অঞ্চল ভেদে একই প্রজাতির সাপের বিষে প্রভাবে তারতম্য ঘটে। তাই স্থানীয় এলাকা থেকে চন্দ্রবোড়া সাপ ধরে তার বিষ দিয়ে অ্যান্টি ভেনম তৈরি করতে হবে, তবেই রোগীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। দিন কয়েক আগে চন্দ্রবোড়া সাপ ধরতে গিয়েই ছোবল খেয়ে ছিলেন সর্প বিশারদ অনুপ ঘোষ। অ্যান্টি ভেনম দিয়ে তাঁকে বাঁচানো যায়নি।  

প্রসঙ্গত,  সাপের মৃত্যু কামড়ে মৃত্যু ঠেকাতে এ রাজ্যে অ্যান্টি ভেনম তৈরির অনুমতি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন সর্পপ্রেমীদের একাংশ। এ রাজ্যে কিন্তু একসময়ে অ্যান্টি ভেনম তৈরি হত। কিন্তু সাপ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০১৬ সালে বাংলার অ্যান্টি ভেনম তৈরি বন্ধ।