তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বলেই মুখ্যমন্ত্রী হতে পেরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাওয়ালার একটি মামলায় কালীঘাট থানায় হাজিরা দিতে এসে এমনই দাবি করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, তিনি যাতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত না হতে পারেন, সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা সাজাচ্ছে পুলিশ। 

এক তৃণমূল নেতার করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এ দিন কালীঘাট থানায় হাজিরা দেন মুকুল। ওই তৃণমূল নেতা আদালতে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে অজানা নম্বর থেকে ফোন করে তাঁর কাছে টাকা পাঠানো হবে বলে জানানো হয়। মুকুল রায়ের নির্দেশেই ওই টাকা তাঁর কাছে আসবে বলে অভিযোগ ছিল তৃণমূল নেতার। আদালতের নির্দেশে কালীঘাট থানা অভিযোগ দায়ের করে। ডেকে পাঠানো হয় মুকুল রায়কে। পাল্টা এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন মুকুল। কলকাতা হাইকোর্ট পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল, বিজেপি নেতাকে জেরা করতে গেলে পাঁচ দিনের নোটিশ দিতে হবে। সেই মতো ফের মুকুলকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। আদালতের নির্দেশ মেনে সেই মামলাতেই কালীঘাট থানায় হাজিরা দেন মুকুল। 

এ দিন প্রায় দু' ঘণ্টা ধরে মুকুলকে জেরা করা হয়। যে তৃণমূল নেতা মুকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, তিনি এক সময় তাঁরই ঘনিষ্ঠ ছাত্রনেতা বলে তৃণমূলে পরিচিত ছিলেন। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে মুকুল বলেন, 'তৃণমূলের কে আমার ছায়াসঙ্গী নয়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার ছায়াসঙ্গী না থাকলে আজকে মুখ্যমন্ত্রী হতেন না। ৩২ ঘণ্টা মমতাদির সঙ্গে রাস্তায় হেঁটেছি। আজ যাঁরা মন্ত্রী তাঁরা কে আমার ছায়াসঙ্গী নয়?' 

মুকুল দাবি করেন, কে তাঁর নাম করে ওই তৃণমূল নেতাকে ফোন করেছিল বা কাকে ফোন করা হয়েছিল, সেসব কিছুই তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যে মামলা করছে পুলিশ। 'সবটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে ভয় পান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন মুকুল যদি ফাঁকা থাকেন, সারা বাংলায় ঘুরে বেড়ায় তাহলে আমি সরকারে থাকব না। সেই কারণে উনি আমাকে আটকে রাখার চেষ্টা করছেন।'

বিজেপি নেতা এ দিন আরও দাবি করেন, অবাধে এবং শান্তিপূর্ণভাবে পুরভোট হলে কলকাতা সহ গোটা বাংলায় তৃণমূলের ভরাডুবি হবে।