ছেলের উপস্থিতিতেই ফ্ল্যাটের মধ্যে মায়ের মৃত্যু। মদ্যপ ছেলের অত্যাচারেই বৃদ্ধার মৃত্য়ু হয়েছে বলে অভিযোগ প্রতিবেশী এবং আত্মীয়দের। বৃহস্পতিবার রাতে এমনই অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল পাটুলি থানা এলাকার দক্ষিণ রায়পুরে। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, দক্ষিণ রায়পুরের একটি আবাসনের দোতলার ফ্ল্যাটে ছেলে দেবল চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকতেন শোভা চট্টোপাধ্যায় নামে ওই বৃদ্ধা। দেবল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী বলে জানা গিয়েছে। মৃতার ভাইয়ের থেকে খবর পেয়ে পাটুলি থানার পুলিশ এসেই মৃতদেহ উদ্ধার করে। 

মৃতা শোভা চট্টোপাধ্যায়ের আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরা তাঁর মৃত্যুর জন্য ছেলে দেবলকেই দায়ী করছেন। তাঁদের অভিযোদ, দীর্ঘদিন ধরে মায়ের উপরে অত্যাচার চালাত দেবল। প্রায় প্রতিদিনই মদ খেয়ে মায়ের উপরে অত্যাচার চালাত সে। দেবলের কাকা পরিমল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাটটি মা এবং ছেলের যৌথ নামে ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই সেই ফ্ল্যাট হাতিয়ে নিয়ে বিক্রির চেষ্টায় ছিল দেবল। কিন্তু তার দাবি মানতে চাননি শোভাদেবী। ছেলের প্রতি অন্ধ ভালবাসায় পুলিশের দ্বারস্থও হননি তিনি। দেবল তার মাকে খেতেও দিত না বলেও অভিযোগ করেছেন পরিমলবাবু। তিনিও নিশ্চিত, দেবলের মারধরের কারণেই শোভাদেবীর মৃত্যু হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন শোভাদেবীর প্রতিবেশীরাও। তাঁদেরও অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই সন্ধের পর থেকে দরজা বন্ধ করে মদ্যপান করত দেবল। মায়ের উপর অত্যাচারে কেউ বাধা দিতে গেলেও দরজা খুলত না সে। উল্টে খারাপ ব্যবহার করত ওই যুবক। 

বৃহস্পতিবার দেহ উদ্ধারে গেলে প্রথম স্থানীয় বাসিন্দারা  পুলিশকে বাধা দেন। অভিযুক্ত ছেলে দেবলকে গ্রেফতারের দাবি জানান তাঁরা। অনেকেরই অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধেতেও ওই বৃদ্ধার চিৎকার শোনা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেবলকে আটক করে পুলিশ। 

এ দিন সন্ধ্যায় দেবলই ফোন করে তার মামা গোবিন্দ চক্রবর্তীকে বিষয়টি জানায়। তাঁর থেকেই খবর পেয়ে দেহ উদ্ধারে আসে পুলিশ। শোভাদেবীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই বৃদ্ধার মৃত্য়ুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে।