চলে যাওয়ার পরও রেশ রেখে গেলেন। কলকাতা সফর শেষ হতেই মমতাকে বার্তা মোদীর,রাজ্য়ের উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করবেন না। টুইটারে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা নিয়েই সরগরম গয়েছে রাজ্য় রাজনীতি। 

সকালে পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে খোঁচা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সরকারি মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি বিরোধিতা করেননি মুখ্য়মন্ত্রীর। কিন্তু কলকাতা ছাড়ার পরই এবার নাম না করে রাজ্য়বাসীর উন্নয়নে বাধা দিতে না করলেন প্রধানমন্ত্রী। টুইটে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কোনও ধরনের কাজই ফেলে রাখছে না কেন্দ্র। আমাদের আবেদন, বাংলায় উন্নয়ন ইস্য়ুতে রাজনীতি বন্ধ হোক। আয়ুষ্মান ভারত ও প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার মতো প্রকল্প চালু হোক।

— Narendra Modi (@narendramodi) January 12, 2020 

 

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কমপক্ষে ৮০ লক্ষ মহিলার ঘরে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার সিলিন্ডার দেওয়া হয়েছে। যার মধ্য়ে ৪৫ লক্ষ আদিবাসী , দলিত ও পিছিয়ে পড়া সমাজের মহিলারা রয়েছেন। পিএম কৃষক সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় আট কোটির বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মোট ৪৩ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও কাটমানি নেই, সিন্ডিকেট নেই, কোনও মিডলম্যান নেই। যখন টাকা সোজাসুজি পৌঁছে যাচ্ছে, টাকা কামানোর সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না, তখন কেন সেই প্রকল্প করতে দেওয়া হবে। তাই বাংলায় এই প্রকল্প চালু হয়নি। 

এই বলেই থেমে থাকেননি মোদী। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কথা তুলেও মমতাকে খোঁচা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার আয়ুষ্মান ভারতের স্বীকৃতি দেবে কিনা জানি না। যদি দেয়, তাহলে এই প্রকল্পে অনেক গরিব মানুষ চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি এইসব নীতি নির্ধারকদের সৎ বুদ্ধি দিন। কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদা পশ্চিমবঙ্গের বিকাশের জন্য চেষ্টা করছে।

জানা  গেছে, এদিন পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে থাকার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও আসেননি তিনি। গতকাল অবশ্য় রাজভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন মমতা। বৈঠকের পর মুখ্য়মন্ত্রী জানান,রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার। সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন তিনি। এমনকী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দলের অবস্থানও মোদীকে জানানো হয়েছে।