নেটিজেন দেবাশিস সেনগুপ্ত এদিন  তাঁর ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করছেন--

ফেসবুকের রাজপথে ট্র্যাফিক পুলিস চাই।

এটা না থাকার ফলে যেটা হচ্ছে, সেটা এই যে বিশাল ট্র্যাফিক জ্যাম আজ দিনভর বিবেকানন্দ রোডে।
গাড়ি ঘোড়া এগোচ্ছেই না।

আর সকাল থেকে ফাঁকাই পড়ে আছে সূর্য সেন স্ট্রিট।
প্রায় একলা একা।

আর তারকেশ্বর অ্যাভিনিউ নামে তো কোন রাস্তাই নেই কলকাতায়!
হবেও না কোনদিন।

 

১২জানুয়ারি যে শুধু বিবেকানন্দের জন্মদিনই নয়, এই দিনেই ফাঁসি হয়েছিল বিপ্লবী সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারের, সে কথাই মনে দিলেন এই নেটিজেন।  বিবেকানন্দ রোড আর সূর্য সেন স্ট্রিটের প্রতীকে তিনি বিবেকানন্দ আর সূর্য সেনকেই বুঝিয়েছেন অনবদ্যভাবে। আর তারকেশ্বর অ্যাভিনিউ বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বিস্মৃতির অতলে চলে যাওয়া তারকেশ্বর দস্তিদারকে। যাঁকে বলতে গেলে মাস্টারদার সঙ্গেই ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়েছিল।

আত্মঘাতী বাঙালি কি তবে এবার বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে চলেছে, উঠেছে প্রশ্ন।

 

কার্যত বেশ কিছু নেটিজেন এদিন বলতে চেয়েছেন, বিবেকানন্দকে নিয়ে উন্মাদনার মাঝে আমরা যেন মাস্টারদা সূর্য সেনের কথা ভুলে না-যাই। আজ বিবেকানন্দের জন্মদিনেই কিন্তু ফাঁসি হয়েছিল চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লু্ন্ঠনের নায়ক সূর্য সেনের। সেই সঙ্গে যেন ভুলে না-যাই বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদারকেও। ১৯৩৩ সালে বিশেষ আদালতে বিচার হয় সূর্য সেন, তারকেশ্বর দস্তিদার এবং কল্পনা দত্তের। ওই বছরের ১৪ অগস্ট সূর্য সেন ও তারেকেশ্বর দস্তিদারের ফাঁসির আদেশ হয়।  কল্পনা দত্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। একবছর পর, ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে মাস্টারদা সূর্য সেন ও তারকেশ্বর দস্তিদারেরকে ফাঁসি দেওয়া হয়। শোনা যায়, ফাঁসির আগেই বীভৎস অত্যাচারে সূর্য সেনকে একপ্রকার মেরেই ফেলা হয়েছিল। তারপর নাকি কার্যত মৃতদেহটিকেই ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়। আজ তাঁর ৮৬ তম প্রয়াণদিবস।

কেউ কেউ বলছেন-- ভক্তিবাদ ভাল, তাই বলে গদগদ ভক্তির মাঝে দুই বিপ্লবীর এই আত্মদানকে ভুলে যাওয়া কি অপরাধ নয়? নাকি বিপ্লবীদের জন্য বরাদ্দ শুধু স্বাধীনতা দিবসের সাউন্ডবক্সে হিন্দিতে বাজতে থাকা-- মা তুঝে সালাম?