নিজস্ব প্রতিনিধি: রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় সরব এখন গোটাদেশই। সোশাল মিডিয়ায় সরব নেটিজেনরাও। আর সেই তালিকায় রয়েছেন কট্টর এনআরসিপন্থী, সিএএ-পন্থী তথা গেরুয়াপন্থীরাও!

ডাকসাইটে পালমোনেলজিস্ট ডা.অশোক সেনগুপ্ত তাঁর ওয়ালে লিখেছেন, "আই কনডেম দ্য বারবারিক অ্যাটাক অন দ্য জেএনইউ স্টুডেন্টস। লেট দ্য পুলিশ বুক দ্য গুনস উইদাউট এনি বায়াস।" সোজা কথায়, দল বা রং না-দেখেই দোষীদের গ্রেফতার করার পক্ষপাতী তিনি। কিন্তু তাঁর ওয়ালে তো এনআরসি আর সিএএ-র পক্ষেই পোস্ট দেখা গিয়েছে এতদিন। তাহলে? এশিয়ানেটের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে ডা. সেনগুপ্ত স্পষ্ট জানালেন, "দেখুন, নাগরিকপঞ্জিই বলুন বা নাগরিকত্ব সংশোধন আইন, আমি বরাবর আমার অবস্থান স্পষ্ট করেছি। সে আপনার পছন্দ হতেও পারে, না-ও হতে পারে। কিন্তু আমি তো একজন অন্ধবিশ্বাসী নই। তাই কালকের ঘটনায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। যারাই এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকুক না কেন, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।"

শুধু ডা. সেনগুপ্তই নন, জেএনইউয়ের ঘটনায় কট্টর গেরুয়াপন্থী বাঙালিরা অনেকেই নিজেদের ওয়ালে ওই ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে পোস্ট করেছেন। রবিবার সন্ধেবেলায় জেএনইউতে হোস্টেলের ফি-বিরোধী আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে লোহার রড নিয়ে যারা হামলা চালায়, তারা সবাই এবিভিপির সদস্য বলে অভিযোগ। দুষ্কৃতীরা শুধু ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত থাকে না, প্রতিরোধের মুখে পড়ে ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশি ঘোষের মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে এইমসে ভর্তি করতে হয়। হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পান না অধ্যাপক সুচরিতা সেনও। তাঁকেও এইমসে ভর্তি করতে হয়। একইসঙ্গে অভিযোগ, হামলার সময়ে পুলিশ কার্যত নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।

জানা গিয়েছে, জেএনইউয়ের ঘটনায় দিল্লি পুলিশের লেফটেন্যান্ট জেনারেলকে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের সঙ্গে নাকি আলোচনায় বসতে বলেছেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লি পুলিশের কাছে একটি রিপোর্টও তলব করেছেন তিনি। এই ঘটনায়, অন্তত বাঙালি নেটিজেনদের মধ্যে যাঁরা মতাদর্শে গেরুয়াপন্থী, তাঁরাও কিন্তু কেউ অভিযুক্তদের আড়াল করতে চাননি। কট্টর গেরুয়াপন্থী এক সাংবাদিককেও দেখা গিয়েছে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নিজের ওয়ালে লিখেছেন-- 'ছিঃ'।

জেএনইউয়ের ঘটনায় গেরুয়াপন্থী বাঙালিরাও যে এইভাবে সরব হবে, তা সম্ভবত ভাবতে পারেননি তাঁদের সহনেটিজেনরাও। নাম না-করে তাই একজন বলেই ফেললেন, "হাজার হোক বাঙালির রক্ত তো, অন্যায় দেখলে একটা সীমার পর আর চুপ থাকতে পারে না।"