টালা ব্রিজের ভোগান্তির জেরে এবার হাত পড়ল রুজি রোজগারে। জ্বালানির খরচ না পোষাতে না পেরে ৯টি রুটের বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিলেন বাস মালিকরা। রাস্তায় বাস কম চলায় ভোগান্তি বাড়ল যাত্রীদের।

টালা ব্রিজের জীর্ণ দশার জেরে আগেই বন্ধ করা হয়েছিল ট্রাক, লরি পরিবহণ। সম্প্রতি ব্রিজ ভাঙার আশঙ্কায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাস পরিষেবা। পরিবহণ দফতর জানিয়েছে ৩টনের বেশি ওজনের কোনও যান চালানো যাবে না টালা ব্রিজে। যার জেরে সমস্যার মুখে পড়েন যাত্রী থেকে বাস মালিক সকলেই। টালা ব্রিজে সীমাবদ্ধতার জেরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বহু বাস রুট। ফলে ঘুর পথে বাস চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় বাস মালিকদের। জ্বালানির পাশাপাশি সময় বেশি লাগায় অনেকেই রাস্তায় বাস নামানো বন্ধ করে দেন। 

এ বিষয়ে জয়েন্ট কাউন্সিল অব বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন ব্যানার্জি বলেন,নিজের ঘরের টাকা নষ্ট করে কোনও বাস মালিকই বাস চালাবে না । এটাই স্বাভাবিক। তাই ৯টা রুটের প্রায় ৩০০-৩৫০ বাস বসে গেল। রাজ্য সরকার বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে রুট ঠিক করতে পারত। পুজোর আগেই রাজ্য সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পথে না হেঁটে পরিবহণ দফতর নিজের মতো করে রাস্তা পরিবর্তন করেছে। যার ফলে প্রায় ১০০০ লোকের রুজি রোজগারে হাত পড়ল। টালা ব্রিজে বাসের ওপর নিষেধাজ্ঞায় চরম সমস্যার মুখে পড়বেন যাত্রীরা। 

বাস মালিকদের অভিযোগ,ঘুর পথে যাওয়ায় জ্বালানির খরচ বেড়েছে তাঁদের। এমনকী একই রুটে একাধিক বাস চলতে শুরু করায় রোজগার কমেছে সব বাসেরই। যার জেরে পেটে টান পড়েছে ড্রাইভার,কন্ডাক্টর খালাসির। বাধ্য হয়েই বাস  পরিষেবা বন্ধ করতে হয়েছে বাস মালিকদের। তপনবাবু জানান, শীঘ্রই রাজ্য সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনায় বসার জন্য আহ্বান জানাবেন তিনি। অতীতের উদাহরণ টেনে তপনবাবু বলেন, মাঝেরহাট ব্রিজ বন্ধ হওয়ার সময় একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানেও একাধিক রুটের বাস বন্ধ হয়ে গেছে। রুজি রোজগারে এখন বিকল্প পথে হাঁটছেন এই পেশার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা।  

সূত্রের খবর, পুজোর আগে থেকে টালা  ব্রিজে বাস বন্ধ হলেও এখনও ব্রিজ কবে ভাঙা হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।  যদিও ব্রিজ হাল্কা করার কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই তুলে ফেলা হয়েছে ব্রিজের ফুটপাথের টালি। টালা ব্রিজের বাস পরিষেবা বন্ধ হওয়ায় বেশিরভাগ বাসই ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সেভেন ট্যাঙ্কস,নর্দান অ্যাভিনিউ বেলগাছিয়া দিয়ে। যার জেরে পাঁচ মিনিটের পথে যেতে ১৫ মিনিট লাগছে যাত্রীদের। যাত্রীদের এই হয়রানি রোধ করতে মেট্রো ও পূর্ব রেলের কাছে ট্রেন বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে রাজ সরকার। ইতিমধ্য়েই রাজ্য সরকারের আবেদনে সাড়া দিয়েছে রেল। তবে তাতেও অফিস টাইমে যাত্রী ভোগান্তি কমেনি।  

আজ থেকে ৯ রুটের বাস বন্ধ

১। ৭৮ - ব্যারাকপুর থেকে ধর্মতলা             ২। ২১৪ - সাঝিরহাট থেকে ধর্মতলা
৩। ২০১- নিমতা থেকে সেক্টর ফাইভ         ৪। নিমতা-হাওড়া মিনি 
৫। ৩৪বি- নোয়াপাড়া থেকে ধর্মতলা          ৬। ২২২- বনহুগলি থেকে বেহালা
৭। ৩৪সি-ডানলপ থেকে ধর্মতলা               ৮। ২০২- নাগেরবাজার থেকে তপসিয়া
৯। ৩২এ দক্ষিণেশ্বর থেকে সেক্টর ফাইভ