স্বাস্থ্য় ভবনে বন্ধ হল করোনার ট্র্য়াাকিং সেল। দুটো সেল চালু থাকলেও তালা পড়েছে একটিতে। জানা গিয়েছে,এখানকার এক নম্বর সেলের ১১ জন করোনা পজেটিভ। পাশাপাশি এই সেলে আরও কিছু সদস্যের করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তাদেরকে আপাতত হোম কোয়ারান্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। 

সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক মহিলা চিকিৎসক এক নম্বর সেলে কাজে যোগ দেন। দিন কেয়েক পরেই তার করোনা উপসর্গ ধরা পড়ে। করোনা পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই আতঙ্ক শুরু হয়ে যায়। এরপরই দিন কয়েকের মধ্য়ে ওই সেলের বাকি সদস্যদেরও করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। পরবর্তীকালে বেশকিছু চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য় কর্মীদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। 

 স্বাস্থ্য় ভবনে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, এখানকার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় কর্তার গাড়ির চালকেরও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। ওই গাড়িতে স্বাস্থ্য় ভবনের অনেকেই যাতাযাত করেছিলেন বলে খবর। এছাড়াও সেল ওয়ানে করোনা আক্রান্ত মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে একই গাড়িতে অন্য় সেলের বেশকিছু স্বাস্থ্য় কর্মীও যাতায়াত করেছিলেন। এদের অনেকের মধ্য়েই করোনার উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

এই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য়কর্মীদের সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন একাধিক স্বাস্থ্য়কর্মী। যার জেরে স্বাস্থ্য়ভবনে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন,কেন সম্প্রতি বেশকিছু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য়কর্মীকে বিনা কোভিড টেস্টে ডিউটিতে জয়েন করানো হয়েছে ? এক্ষেত্রে কেন স্বাস্থ্য়বিধির ন্যূনতম নির্দেশিকা মানা হয়নি। এই নির্দেশিকা মানা হলে এই অবস্থা হত না।

কী এই ট্র্য়াকিং সেল ? রাজ্য় জুড়ে যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের দ্রুত আইসোলেন করে করোনার বিস্তার আটকে দেওয়াই এই সেলের কাজ। প্রথমে একটি সেল দিয়ে শুরু হলেও করোনা সংক্রমণের কেসের সংখ্য়া বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও কিছু ট্র্যাকিং সেল গঠন করে স্বাস্থ্য় ভবন। এ সবই স্বাস্থ্য় সচিবের দফতরের অধীনে। স্বাস্থ্য় সচিবের প্রতিনিধি হিসাবে এই সেলগুলির মধ্যে সমন্বয় রক্ষা ও তাদের কাজের পরিচালনার জন্য় স্বাস্থ্য় ভবনে একাধিক শীর্ষ কর্তা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য় কর্মীরা এর সদস্য হিসাবে কাজ করে চলেছেন। বলতে গেলে কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই সেলগুলি রাজ্য় সরকারের ওয়ার রুম। তাই সেখানে করোনার থাবা স্বাভাবিকভাবেই বেশকিছু প্রশ্ন তুলেছে।