পাল্টে গিয়েছে ঘর-সংসার। মহিলারা বসছেন ধরনায়। আর পুরুষরা করছেন ঘরকন্য়া। কলকাতার পার্ক সার্কাসের মাথায় কি তাহলে মাও সেতুংয়ের অর্ধেক আকাশ দেখা দিল এবার?

 শাহিনবাগের আদলে কলকাতার পার্ক সার্কাসে চলছে সিএএ-বিরোধী অবস্থান। যার সামনের সারিতে রয়েছেন মহিলারা। আর সেই মহিলাদের সিংহভাগই মুসলিম। সেখানেও আরেক বিপ্লব। কেউ কেউ বোর্খা বা হিজাব পরলেও অনেকেই আর সেখানে পর্দানসীন হয়ে থাকতে চাইছেন না। তাঁরা পরছেন জিনস আর টি-শার্টস।

তোপসিয়া থেকে শুরু করে ইলিয়ট রোড হয়ে শামসুল হুদা রোড, এবার চৌকাঠ ভেঙে এগিয়ে আসছে সবাই। এক সময়ে যে পরিবারের মেয়েরা ঘর ছেড়েই বেরুতে পারতেন না সেভাবে, তাঁরাই আজ পার্ক সার্কাস ময়দানে দিনভর ধর্নায় বসছেন। সংশোধিত নাগরিকত্ব বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে অবস্থানে তাঁরাই আজ  ভিড়ে একাকার।

পার্ক সার্কাসের অবস্থান বিক্ষোভ  শুধু বাইরেই নয় , ঘরের ভেতরেও  মেয়েদের ভূমিকাই পুরো পাল্টে দিয়েছে। এতদিন যে বাড়ির পুরুষরা কুটোটি পর্যন্ত নাড়েননি, তাঁরাই এবার হাত লাগিয়েছেন রান্নার কাজে। শুধু তাই নয়, বাচ্চাকে  স্কুলে দিয়ে আসা, নিয়ে আসার মতো কাজও করতে হচ্ছে পুরুষদের। জলখাবারও বানাতে হচ্ছে। কারণ বাড়ির মেয়েরা যে সব ধর্নামঞ্চে।

ওয়াসি আখতার পেশায় ব্য়বসায়ী। আখতার কার্যত স্বীকার করে নিলেন, এখন তাঁকে কার্যত ঘর সামলাতে হচ্ছে। একইসঙ্গে মা ও বাবার ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। আখতারদের স্ত্রী এখন পার্ক  সার্কাস ময়দানে ধর্নামঞ্চে যাচ্ছেন নিয়মিত। তাই চার মেয়ের দায়-দায়িত্ব এখন আখতারের ওপরেই পড়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়েদের স্কুলের জন্য় তৈরি করিয়ে দিতে হচ্ছে। তারপর তাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া। সন্ধের মধ্য়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে। মেয়েদের পড়াতে বসতে হচ্ছে। কারণ প্রতিদিন ধর্নামঞ্চ থেকে ফিরে খুব ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছেন স্ত্রী। আখতারের কথায়,  "আগে আমি সংসারের কাজ একেবারেই করতাম না বলতে গেলে। এখন আমাকে সবকিছুই করতে হচ্ছে। মেয়েদের তৈরি করা থেকে শুরু করে স্কুলে দিয়ে আসা। জলখাবার তৈরি করা। সবকিছুই করতে হচ্ছে। আমি চাই না এই সময়ে আমার স্ত্রী ঘরকন্য়া নিয়ে ব্য়স্ত থাকুক। ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে এখন।"

নিঃশব্দ বিপ্লব বইকি।