শিয়ালদহে ব্যস্ত রাস্তায় ধস দেখিয়ে দিয়েছে পিচের রাস্তাতেও রয়েছে বিপদের আশঙ্কা। আট ফুটের ধস দেখে এখন চিন্তায় পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। কলকাতায় প্রায়শই ধস নামার ঘটনা চিন্তায় রেখেছে তাঁদেরও।

ঢাকুরিয়া, বিবেকানন্দ রোডের পর একেবারে শিয়ালদহের জগৎ সিনেমা। ব্যস্ত রাস্তায় দিনের পর দিন ধস দেখে এবার আতঙ্ক বাড়ছে নিত্যযাত্রীদের মনে। পুরোনো আমলের সেতুর পর এখন মহানগরবাসীর মনে কেবলই ধস বিপত্তির আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলকাতায় ধস নামার ঘটনা স্বাভাবিক। ব্রিটিশ আমলের রাস্তার তলা দিয়েই রয়েছে নিকাশির ব্য়বস্থা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ম্যানহোলের নীচে জমা বর্জ্য়ের গ্য়াস থেকে বিস্ফোরণ হচ্ছে। যার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ট্যাংরা। নিকাশির গ্য়াস বের হতে না পেরে রাস্তা ফুঁড়ে বেরিয়েছে। যার জেরে ধস নেমেছে রাস্তায়। অনেক ক্ষেত্রে নিকাশির জলের পাইপ ফুটো হয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে পিচের রাস্তার নীচের মাটি। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার ফলে ওপরে চকচকে দেখালেও পিচের তলার মাটি উধাও হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রায়শই ধস নামছে কলকাতার রাস্তায়।

পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, টানা দুদিন ধরে বৃষ্টির সঙ্গে জলের পাইপ ফুটো হয়েই ক্ষয়ে গেছে এপিসি রোডের মাটি। যার ফলস্বরূপ সোমবার সপ্তাহের শুরুতেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে অফিসযাত্রীদের। জগৎ সিনেমার সামনে ধসের জেরে দীর্ঘ সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় একাধিক রাস্তা। তবে আগামী দিনে ধসের হাত থেকে বাঁচতে কোনও উপায় বের করতে পারেননি  কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। সূত্রের খবর, টালা ব্রিজ নতুন করে গড়ার সময় এক ধরনের মেশিন ব্য়বহার করা হচ্ছে। ব্রিজের তলায় কী আছে তা বলে দিচ্ছে এই মেশিন। মেটাল ডিটেক্টরের মতো এই মেশিনকে ভবিষ্যতে ধসপ্রবণ রাস্তায় ব্যবহার করা যেতে পারে। অন্তত তেমনই মনে করছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা।   

কিছুদিন আগেও কলকাতার নিকাাশি ব্য়বস্থা নিয়ে আক্ষেপ করেছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনিও জানান, ব্রিটিশ আমলের এই নিকাশি ব্য়বস্থার বহু বছর সংস্কার হয়নি। যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে কলকাতাবাসীকে। অল্প বৃষ্টি হলেও কোথাও কোথাও খাস কলকাতায় জল জমে যাচ্ছে। পাম্প দিয়ে সেই জল বের করতে হচ্ছে। সূত্রের খবর, বহু পুরোনো হওয়ায় হরিদেবপুরের মহাত্মা গান্ধি রোড, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, নর্দান অ্যাভিনিউ ছাড়াও ধস চিন্তায় রেখেছে কাশীপুর রোডকে। এছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার বেশ কিছু রাস্তা ভাবাচ্ছে কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়রদের।