দেড়শো বছরে বদলে গেল কলকাতা বন্দরের নাম। কলকাতায় এসে এই ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা বন্দরের নাম বদলে হচ্ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু দেশের শিল্পায়নের জোয়ার আনতে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ, তাই তাঁর নামেই কলকাতা বন্দরের নামকরণ করা হলো। 

এমনিতেই কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে শনিবার থেকেই বিক্ষোভ চলছিল। এ দিন নেতাজি ইন্ডোর কলকাতা বন্দরের অনুষ্ঠানের সময়ও বাইরে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। কোনওক্রমে পরিস্থিতি সামলায় পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর এ দিন কলকাতা বন্দরের নাম বদলের ঘোষণায় সেই বিক্ষোভের মাত্রা আরও বাড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দেশে শিল্পায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, হিন্দুস্তান এয়ারক্র্যাফ্ট ফ্যাক্টরি, সিন্ধ্রি বীজ কারখানা, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন-এর উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং বাবাসাহেব আম্বেদকর স্বাধীনতার পরে ভারতের জন্য নতুন নীতি, পরিকল্পনা করেছিলেন।' প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্য পরবর্তী  সময়ে কোনও যথাযথ বরাদ্দই করা হয়নি। 

আরও পড়ুন- 'গরিবের আশীর্বাদে শান্তিতে ঘুমোই', কাটমানি- সিন্ডিকেট খোঁচা মোদীর

প্রধানমন্ত্রী জানান ২০১৪ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের জলপথকে আরও বেশি করে কাজে লাগানোর জন্য নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাগরমালা প্রকল্পে দেশের পুরনোর বন্দরগুলির আধুনীকিকরণ ও নতুন বন্দর তৈরির করা হবে। নরেন্দ্র মোদীর দাবি, ২০২১ সালের মধ্যেই গঙ্গায় জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। তার জন্য গঙ্গার প্রয়োজনীয় নাব্যতা বৃদ্ধি করার কাজ চলছে। 

এর আগে রাজ্যে বর্ধমান স্টেশনের নাম বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের নামে করা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট- এর নাম বদল নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয় কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।