হাতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ফণীর মার থেকে বাঁচতে চেষ্টার কসুর করছে না প্রশাসন। ইতিমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে সমস্ত সরকারী স্কুল। জেলায় জেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এবার দীঘা খালি করতে তৎপর হল প্রশাসন। ট্রেন বাতিলের ফলে যাত্রীদের যাতে ফিরতে ঝক্কি না হয়, তাই ৫০ টি বাসকে দিঘায় পথে নামাল এসবিএসটিসি।

৩ মার্চ ভোর ৫ টা থেকে আধ ঘণ্টা অন্তর অন্তর পাওয়া যাবে এসবিএসটিসির বাস। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রিসার্ভে রাখা হয়েছে আরও ১৫ টি বাস।

২০০৯ সালের আয়লার ত্রাস এখনও স্মৃতি থেকে মুছে যায়নি পশ্চিমবঙ্গবাসীর। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, কলকাতা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলা ব্যাপকভাবে ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয় এই ঝড়ে। সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আয়লার প্রভাবে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হন। অন্তত ১০০টি নদীবাঁধ ঝড়ের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সারা দেশে ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা ১,৫০,০০০-এর কাছাকাছি দাঁড়ায়। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং-এ প্রবল বর্ষণে পাহাড়ে ধস নামায় ৬ জন নিখোঁজ এবং ২২ জন নিহত হন। ওই অঞ্চলে অন্তত ৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ন্যূনতম ৫০,০০০ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির শিকার হয়, যার নির্ধারিত মূল্য ১২৫ কোটি টাকা। এবার তাই শুরু থেকেই প্রস্তুতিতে ফাঁক রাখতে চাইছে না সরকার। খোলা হচ্ছে রাস্তার বিপজ্জনক হোর্ডিং। পুরসভার চিহ্ণিত বিপজ্জনক বাড়িগুলিতেও নজর রাখা হবে দুর্ঘটনা এড়াতে।

অন্য দিকে, পূর্ব রেলের জেনারেল  ম্যানেজার  পি এস মিশ্র গত ২ মে রেলের বড়কর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা সেরেছেন বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যে অ্যাকশন প্ল্যানগুলি ঠিক করতে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে যোগাযোগ রাখা হবে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও এনডিআরএফ টিমের সঙ্গে। যাত্রীদের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ট্রেন বাতিলের ফিরিস্তি ঘোষণা করা হবে।  তৈরি রাখা হচ্ছে অ্যক্সিডেন্ট রিলিফ ট্রেন।   ওভারহেড  তার মেরামতির জন্য তৈরি থাকছে টাওয়ার ভ্যান।শুক্রবার রাত্রি ৯ টা থেকে শনিবার সন্ধে ছটা পর্যন্ত সমস্ত বিমান ওঠানামাও বন্ধ রেখেছে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

 প্রসঙ্গত, ভাবা হচ্ছিল এদিন পুরী, গোপালাপুর অঞ্চলে ফণী ঢুকবে দুপুর তিনটের পরে। কিন্তু দিল্লীর মৌসম ভবন জানাচ্ছে ফণী শক্তি বাড়িয়ে দ্রুত গতিতে আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল ন'টা নাগাদ ওড়িশায় আছড়ে পড়ে ফণী।