এক বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েও কার্যত অন্তরালে ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্য়ায়। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলেও দলেন কোনও কাজে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি তাঁকে। সম্প্রতি, সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে কোন দল থেকে সক্রিয় হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। কয়েকদিন আগে তাঁর বাড়িতে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন বিজেপির পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন।

বাংলায় একুশের বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করেছে বিজেপি। তৃণমূল সরাতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই অবস্থায় তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া শোভন চট্টোপাধ্য়ায়কে ঘরে ফেরাতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেসও। সেজন্য শোভনকে ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়। কিন্তু কোনও ভাবেই সাড়া দেননি শোভন চট্টোপাধ্য়ায়। পাশাপাশি, বিজেপিতে যোগদান করলেও দলের সক্রিয় ভূমিকাতেও নেই তিনি।

তৃণমূল থাকাকালীন বৈশাখী নিয়ে বিতর্কের আবহে রাজ্য মন্ত্রিসভার তিনটি পদ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ পদ হাতছাড়া হয়েছিল শোভনের। তারপরেও ৯ মাস ধরে তৃণমূলের ছিলেন তিনি। এরপর, বিজেপিতে যোগদান করলেও সক্রিয় ভূমিকাই নেই। তবে করোনা কাটলে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু কোন দলে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

'ক্লোজড চ্য়াপ্টার তৃণমূল' শোভন এই মন্তব্য ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাহলি কী গেরুয়া শিবিরের হাত শক্ত করছেন শোভন। বিজেপিতেই সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূলে ফিরতে চাইলেও শর্ত দিয়েছেন শোভন। যদিও ঘরে ফিরার পরই শোভনের শর্ত মেপে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। এই অবস্থায় বিজেপির দিকেই শোভনের পাল্লা ভারী বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।