রাজ্য়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তৎপরতা শুরু হল।

এবছর জানুয়ারি মাসে নবান্ন রীতিমতো প্রশাসনিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে  দিয়েছিলেন, রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাবজনিত ক্ষতিপূরণ করতে ইন্টার্ন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। বলা হয় দুই বছরের চুক্তিতে থাকবেন এই শিক্ষকরা। স্নাতক উত্তীর্ণ হলে আবেদন করা যাবে। এই শিক্ষানবিশ শিক্ষকদের মাসে আড়াই হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়। সেই প্রকল্প এখন বিশ বাও জলে। ইন্টার্ন নিয়োগের পরিকল্পনা আপাতত দূরে ঠেলে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে চাইছে রাজ্য সরকার। 

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন বিধানসভায় বলেন, শিক্ষক নিয়োগের  যে প্রক্রিয়া চলছে তা চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে শেষ করতে চায় রাজ্য সরকার। তার আরও দাবি, এ ব্যাপারে পরীক্ষার্থীদের মামলাই বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করছে। 

প্রসঙ্গত এসসসি নিয়ে  তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। ২০১৬ সালেই নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তখনই হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল সফল প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর সহ মেধা তালিকা বের করতে হবে। প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর ছাড়াই শুধুমাত্র নামের তালিকা প্রকাশ করার বিষয়টিকে ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট। মামলার ভিত্তিতে মোট ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রাপ্ত নম্বর জানাতে হবে। ১২ হাজার ৬০০ শূন্য পদের শিক্ষক নিয়োগ তখনই আটকে গিয়েছিল। ২৭ শে নভেম্বর পরীক্ষা দিয়ে বসে ছিলেন কার্যত কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী।

এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৬ ই জানুয়ারি ঘোষণা করেন কলেজ পাশ করলেই গ্রামীণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া যাবে।মমতার এই ঘোষণাতেও বিরাট বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। তারপরের দিনই সাংবাদিক বৈঠক করে এ বিষয়টি সম্পর্কে জবাবদিহি করেছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান সৌমিত্র সরকার। এই সময় এসসসির চেয়ারম্যান ও সচিবকেও ভর্ৎসনা করে হাইকোর্ট।

এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিয়োগ পক্রিয়ার ঘোষণার পাশাপাশি হিসেবও দেন শিক্ষক নিয়োগের। তার হিসেব অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষায় এখনও পর্যন্ত কাজ পেয়েছে ২৯ হাজার ৯৯৭ জন। প্রসঙ্গত গতকালই প্রাইমারি শিক্ষকদের গ্রেড পে নিয়েও সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আপাতত নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ায় আশায় দিন গুণছেন রাজ্য জোড়া কয়েক হাজার শিক্ষার্থী।