হায় বাংলা। কলকাতায় রেলের জিএম অফিসে কার্যত একজনকেও পাওয়া গেল না, যিনি কিনা বাংলায় কথা বলতে পারেন! আর অনেক বাদানুবাদের পর যদি-বা কাউকে পাওয়া  গেল, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন ডেপুটেশন নিতে তাঁরা অপারগ।

সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, বাংলা পক্ষ বলে  একটি গণ-সংগঠন গিয়েছিল কলকাতায় রেলের জিএম অফিসে একটি ডেপুটেশন দিতে। তাদের বক্তব্য় ছিল, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য়ে রেলের জন্য় বরাদ্দ করেছে মাত্র ১ হাজার টাকা। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে রেল মন্ত্রককে নাকি ১০০১ টাকার একটি চেক পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, রেল বাংলার জন্য় যে বাজেট বরাদ্দ করেছে তার থেকে ১টাকা বেশি দিয়ে সেই  অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। এরপরই সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি ডেপুটেশন দেওয়ার উদ্য়োগ নেওয়া হয়। সেই মতো সংগঠনের সদস্য়রা যান পূর্ব রেলের জিএম অফিসে। সেখানে উপস্থিত আরপিএফ কর্মীদের তাঁরা অনুরোধ করেন ডেপুটেশনটি গ্রহণ করার জন্য়।

এরপরই শুরু হয় সমস্য়া। ওই কর্মীরা কেউই ডেপুটেশনটি নিতে রাজি হন না। প্রকারন্তরে তাঁরা জানান, ডেপুটেশন গ্রহণ করার এক্তিয়ার তাঁদের নেই। সংগঠনের পক্ষ থেকে তখন তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কার তত্ত্বাবধানে  অফিসটি খোলা হয়েছে। তখনই শুরু হয় বাদানুবাদ।  উপস্থিত কেউই প্রায় বাংলায় উত্তর দিতে পারেন না। তখন সংগঠনের সদস্য়দের ক্ষোভের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, সেখানে কি একজনও নেই যিনি বাংলায় কথা বলতে পারেন?

এরপর বেশ খানিক্ষণ ধরে চলতে থাকে দু-পক্ষের মধ্য়ে বাদানুবাদ। অবশেষে একজন বাঙালি কর্মী এগিয়ে আসেন। তিনি সংগঠনের সদস্য়দের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন। কিন্তু সেইসঙ্গে জানিয়ে দেন, ওই ডেপুটেশন নিতে তাঁরা অপারগ। এরপর সেখান থেকে চলে আসেন বাংলা পক্ষের সদস্য়রা।

সবশেষে  শুধু একটাই প্রশ্ন ওঠে, বাংলায় বাংলাভাষী আরপিএফ খুঁজে পেতে এমন গরু খোঁজা খুঁজতে হয় কেন?