রাজ্য় জুড়ে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি  চলছে। ডাক্তারদের আন্দোলনের মাঝেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অশান্তি তৈরি করার অভিযোগ আনলেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের মহিলা ডাক্তার-সহ জুনিয়র ডাক্তাররা।  অভিযোগ, এদিন রাতে তৃণমূল বহিরাগতদের হাসপাতাল চত্বরে ঢুকিয়ে আন্দোলন তুলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। মহিলা ডাক্তারদের আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশ করার হুমকিও নাকি দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এমনকী, হস্টেলে ডাক্তারদের নজরে রাখতে ঢোকানো হচ্ছে বহিরাগতদের। 

শুক্রবার রাতে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়।এই ব্যাপারে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক জুনিয়ার মহিলা ডাক্তার নিবেদিতা মণ্ডল অভিযোগ করেছেন,"মুখে কর্মবিরতি তুলতে বলার কথা বলার পাশাপাশি রাতে শাসক দলের লোক ও বহিরাগতরা বাইকে করে ক্যাম্পাস চত্বরে পিস্তল,ছুরি,কাঁচি নিয়ে ঘুরে আমাদের কর্মবিরতি তুলে ফেলার হুমকি দেয়। না তুললে মেরে ফেলার পর্যন্ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।"

তাঁর অভিযোগ,"আমরা সকলেই বাইরে থেকে এসে এই মেডিক্যাল কলেজ হস্টেলে থেকে পড়াশুনো করি। ফলত স্থানীয় না হওয়ায় আমাদের এও বলা হচ্ছে কোনও কারনে আমাদের দেহ গুম করে দিলে তা কেউ খুঁজেও পাবেনা। ফলে প্রতিটা মুহূর্ত চূড়ান্ত নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে আমাদের।"

পাশাপাশি আর এক মহিলা ডাক্তারও এদিন অভিযোগ করে বলেন,"এই মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে দুষ্কৃতীরা আমাদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। আমরা হস্টেলে বন্দি হয়ে বসে থাকছি।"

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এর পরে ডাক্তারদের সঙ্গে আলোচনা করতে আসেন মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান। শুরুতেই তিনি বলেন,গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য জুড়ে সরকারি হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতির ফলে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার অভাবে বেশ কয়েকজন রোগী মারা গিয়েছেন। রোগীর পরিবারেরা আবু তাহের খানের দ্বারস্থ হয়ে বিক্ষোভ চালাচ্ছেন। ফলে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন তিনি। সেই কথা মতো ডাক্তারেরা বিক্ষোভ তুলেও নেন। 

আবু তাহের খানের অভিযোগ রাতে কোনও রাজনৈতিক দলের মদতে ডাক্তাররা এই আন্দোলন জারি রাখছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থেই তাঁদের ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। 

এছাড়াও সাংসদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন,"তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। সমস্ত জুনিয়র ডাক্তারেরা আমার মেয়ে বা ভাই-বোনের মতো। তাঁদের সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। কোনও খারাপ ভাষা প্রয়োগ করা হয়নি। কারোকে প্রাণ নাশের হুমকি বা ক্যাম্পাসে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেউ প্রবেশ করেনি।"তিনি সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আবার জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার আবেদন জানান। 
যদিও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়ার ডাক্তারেরা এই সাংবাদিক বৈঠকের পরেও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে মুর্শিদাবাদ সাংসদ আবুতাহের খান তৃণমূল নেতৃত্বদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের কর্মবরতি তুলেতে চাপ দিয়েছেন। সেই সময়ে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন সাংসদও। পরে তিনি চলে যাবার পরে শুরু হয় আগ্নেয়াস্ত্র,পিস্তল নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের মধ্যে দুষ্কৃতীরা আতঙ্ক তৈরি করে বলে অভিযোগ।