শনিবার পুকুরের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছিল এক কিশোরীর দেহ। রবিবার সেই একই পুকুরের মধ্যে থেকে উদ্ধার হল এক বৃদ্ধার দেহ। পর পর দু' দিন একই পুকুর থেকে দুই মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বেহালার ঠাকুরপুকুর থানার পদ্মপুকুরে। 

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া কিশোরী এবং বৃদ্ধা সম্পর্ক ভাইঝি এবং পিসি। তাঁরা ওই এলাকারই একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন বলে জানা গিয়েছে। 

শনিবার সকালে পদ্মপুকুর এলাকার ওই পুকুরের একটি কিশোরীর মৃতদেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। খোঁজ খবর নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পারেন, এলাকার একটি বাড়িতে এক বৃদ্ধার সঙ্গে ভাড়া থাকত ওই কিশোরী। বাড়ির মালিক এলাকার এক বাসিন্দার কাছে দাবি করেন, শনিবার সকালেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান ওই কিশোরী এবং বৃদ্ধা। 

এর পরে এ দিন সকালে ফের ওই একই পুকুরে আবারও এক বৃদ্ধার মৃতদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিশোরীর সঙ্গে ওই বৃদ্ধাই থাকতেন বলে অনুমান করে বাড়িওয়ালার উপরে চড়াও হন এলাকার বাসিন্দারা। যদিও সেখানে বাড়ির মালিকের ছেলে দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায়নি। এর পরে দেবাশিসকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে এলাকার বাসিন্দারা। তাদের সন্দেহ, দেবাশিসই ওই কিশোরী এবং বৃদ্ধাকে খুন করেছে। 

অনির্বাণ বসু নামে এক স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, কয়েকদিন আগেই দেবাশিসের সঙ্গে ভাড়াটে ওই বৃদ্ধা এবং তার ভাইঝির বচসা হতে শুনেছিলেন তিনি। ফলে বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত কোনও বিবাদ থেকেই এই খুন বলে অনুমান এলাকার বাসিন্দাদের। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত দেবাশিসকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। তাকে ঠাকুরপুকুর থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করা হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, অভিযুক্ত দেবাশিস তন্ত্র সাধনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বেশ কয়েকবার বিভিন্ন ঝামেলায় জড়িয়েছে সে। এলাকার কারো সঙ্গে সেভাবে দেবাশিস বা তার পরিবারের কেউ মিশতও না। এলাকাবাসীর সন্দেহ, ওই কিশোরী এবং বৃদ্ধাকে একই সঙ্গে খুন করে দেহ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার বৃদ্ধার দেহ ভেসে উঠেছে। তবে মৃত দু' জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।