আমফানের তাণ্ডবের এখনও এক সপ্তাহ হয়নি। এরমধ্যেই ফের রাজ্যে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সপ্তাহন্তে রাজ্যে কালবৈশাখীর সম্ভাবনার কথা জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও।

একে করোনার থাবা, তার উপর ঘূর্ণিঝড়, পুরো বিধ্বস্ত হয়ে রয়েছে বাংলা। শহরের কখনও প্রবল সূর্যের তেজ, তো আবার কখনও দমকা বাতাসের ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। আমফানের দাপট কাটতে না কাটতেই ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে ।  আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বীরভূম ও কোচবিহারে শুরু হয়েছে ঝড় –বৃষ্টি। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।  উত্তরবঙ্গে উপরের পাঁচ জেলা, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং আলিপুরদুয়ারে বেশি বৃষ্টি হতে পারে ।  অন্যদিকে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা । 

পূবালী ও দক্ষিণী হওয়ার জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে, ফলে নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দুই বাংলাতেই। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে , আগামী ৩-৪ দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায়। হালকা বৃষ্টিতে ভিজবে শহর কলকাতাও। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের ৫টি জেলা এবং কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির সম্ভাবনা বর্তমান। 

আজ কলকাতা  শহরে সকাল থেকেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাপমাত্রার খুব একটা হেরফের এদিন  লক্ষ্য করা যাবে না। আজ সর্বচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকবে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। সকালের শুরুতে মেঘলা আকাশ দেখা গিয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে দমকা বাতাসও।

 এদিকে আবহাওয়াবিদরা আগেই জানিয়েছেন, এবছর গরম বাড়বে। স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে কিছু কিছু অঞ্চলে। আবার কিছু কিছু জায়গায় ১ ডিগ্রির থেকেও বেশি বৃদ্ধি পাবে। দিল্লি সহ উত্তর ভারতে ইতিমধ্যে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে মৌসম ভবন। 

মৌসম ভবন জানিয়েছে, এবারে বর্ষা ঢুকবে সঠিক সময়েই। দক্ষিণ -পশিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এবছর  জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্ষার আগমন ঘটবে। স্বাভাবিক সময়েই হবে বৃষ্টি। এতে করে কৃষি কাজেও খুব একটা সমস্যা সৃষ্টি হবে না। ফলে কৃষকদের জন্যও এল সুখবর। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, জুনের প্রথমেই কেরালায় বর্ষা প্রবেশ করবে। তারপর তা পানজি, পুনে ও মুম্বই হয়ে দেশের রাজধানীতে প্রবেশ করবে।