রাজ্য়ে একদিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭০০ ছুঁল। সঙ্গে সঙ্গে ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় রেকর্ড গড়ল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের বুলেটিন বলছে, রাজ্য়ে একদিনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৬৯০ জন৷ ফলে এই পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬,১১৭ জন৷

গত একদিনে রাজ্য়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের৷ সব মিলিয়ে রাজ্য়ে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১০২৩ জনে৷ গতকাল এই সংখ্যাটা ছিল ১০০০ জনে৷ এই মূহূর্তে অ্যাক্টিভ আক্রান্তের সংখ্যা ১৩,৬৭৯ জন৷ গতকাল সংখ্যাটা ছিল ১২,৭৪৭ জনে৷ একদিনে বেড়েছে ৯৩২ জন৷ আক্রান্তের সংখ্য়া লাফিয়ে  বাড়ার সঙ্গে কমছে সুস্থ হয়ে ওঠার হার।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্য়ে ৭৩৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন৷ বুধাবার এই সংখ্যাটা ছিল ৭৪৯ জনে৷ তবে এই পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২১,৪১৫ জন৷ শতাংশ এর হিসেবে ৫৯.২৯ শতাংশ৷ যা এক সময় ৬৫ এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল৷ রাজ্য়ে ২৩ জনের যে মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে কেবল কলকাতারই রয়েছে ১২ জন৷ উত্তর ২৪ পরগনার ৭ জন৷ হাওড়া ১ জন৷ হুগলির রয়েছে ২ জন৷

বৃহস্পতিবার রাজ্য়ের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার নতুন বিধি লাগু করল রাজ্য় সরকার। নতুন নিয়ম অনুসারে এবার থেকে সরকারি অফিসে ৭০ শতাংশের বদলে ৫০ শাতাংশ হাজিরা দিতে হবে। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই নিয়ম। বৃহস্পতিবার নবান্নে এই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। 

পাশাপাশি ব্যাংকগুলিকে সপ্তাহে দুদিন ছুটি দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে  রাজ্য় সরকার। এতদিন রাজ্য সরকারি দফতরগুলিতে ৭০ শতাংশ কর্মীর উপস্থিতি ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু রাজ্য়ে লাগামছাড়া সংক্রমণে ঘুম ছুটেছে স্বাস্থ্য় ভবনের। বাধ্য় হয়ে সামজিক দূরত্ব ও ভিড় এড়াতে জোর দিয়েছে রাজ্য় সরকার।  তাই এবার থেকে সরকারি অফিসে ৭০ শতাংশের বদলে ৫০ শতাংশ কর্মীরা আসবেন। 

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব সরকারি দফতরে প্রতি সপ্তাহে স্যানিটাইজ করা হবে। অফিসে ভিড় কমাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমকে গুরুত্ব সহকারে বিচার  করছে রাজ্য় । সরকারি অফিসগুলির পাশাপাশি বেসরকারি অফিসগুলিকেও ওয়ার্ক ফ্রম হোম পদ্ধতিতে কাজ করানোর আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।