বুধবার সকালে প্রকাশ করা হল মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২০-র ফল। পাসের হারের ক্ষেত্রে হয়েছে সর্বকালীন রেকর্ড,  ৮৬.৩৪ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ। যেহেতু মাধ্যমিক পরীক্ষা পুরোপুরি শেষ করা গিয়েছিল তাই মেদা তালিকাও প্রকাশ করেছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। প্রথম ১০ টি স্থান ভাগ করে নিয়েছেন ৮৪জন পরীক্ষার্থী। বিস্ময়কর হল, তার মধ্য়ে কলকাতার একজনও পরীক্ষার্থীর নাম নেই। ইতিহাসে এরকমটা এর আগে কখনও হয়েছে কিনা, কেই মনে করতে পারছেন না। কিন্তু কেন এমন হল?

গত কয়েক বছর ধরেই মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় কোনঠাসা হচ্ছিল কলকাতা। দাপট বাড়ছিল জেলার। এই বছর মেধা তালিকায় জেলার আগ্রাসনে কলকাতা একেবারে নেই হয়ে গিয়েছে। কেন এই প্রবণতা, কেন এই বছর শহর কলকার একজনও পরীক্ষার্থী মেদা তালিকায় স্থান করে নিতে পারলেন না তার কোন সদুত্তর দিতে পারেনি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদের সভাপতি কল্যানময় গঙ্গোপাধ্যায় উল্টে সাংবাদিকদেরেই এই বিষয়ে গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন।

পরে কল্যানময় গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা থেকে মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় প্রতিনিধিত্ব না থাকা নিয়ে বলেন, বর্তমানে কলকাতার অনেক বাসিন্দাই কলকাতার স্কুলগুলিতে শিক্ষার্থীদের না পড়িয়ে জেলার স্কুলে পড়াচ্ছেন। কলকাতার আশপাশের জেলার স্কুলগুলিতে এমন অনেক ছাত্র-ছাত্রী পড়েন, যাঁদের  বাড়ি কলকাতায়। আবার জেলার রামকৃষ্ণ মিশনের স্কুলগুলি কিংবা অন্যান্য বোর্ডিং স্কুলেও শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার প্রবণতা বেড়েছে।

পর্ষদের এই যুক্তি অনেকেই মানতে পারেননি। কলকাতার বুকে হিন্দু স্কুল, হেয়ার স্কুল, সাউথ পয়েন্ট স্কুল-এর মতো নামি দামি স্কুল রয়েছে। সেইসব স্কুল ছেড়ে শিক্ষার্থীদের জেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়, এটা খুবই অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন স্কুলশিক্ষার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। তাঁদের অনেকে বলছেন, আসলে যতদিন যাচ্ছে ততই কলকাতা শহরের ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের সিবিএসই, আইসিএসই বোর্ডের ইংরাজী মাধ্যমের স্কুলে পড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। এতে ভবিষ্যতের পড়াশোনা কিংবা কর্মক্ষেত্রে সুবিধা হবে মনে করা হচ্ছে। ক্রমে ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমিক বোর্ড-এ পড়ার প্রবণতা কমছে।