অস্বাভাবিক মৃত্যু হল  রোজ ভ্যালি কাণ্ডের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মন্টি জয়সওয়ালের। বেআইনি অর্থ লগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির কর্ণধার গৌতম কুণ্ডুর ঘনিষ্ঠ বছর পঁয়ত্রিশের মন্টি আত্মহত্যা করেছেন বলেই প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে পুলিশ।

১২ ডিসেম্বর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে মন্টি জয়সওয়ালের। বেহলায় স্ত্রী ও মেয়েক নিয়ে থাকতেন মন্টি। তবে চোতলা রোডে বাব-মায়ের বাড়িতে গিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। 

রোজ ভ্যালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর চাকরির চেষ্টা করছিলেন মন্টি। কিন্তু ঠিক মত চাকরি না পাওয়ায় তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেন জানিয়েছেন স্ত্রী বর্ণালি জয়সওয়াল। তবে শেষের দিকে নতুন করে কাজকর্ম শুরু করেছিলেন মন্টি। 

রোজ ভ্যালিতে থাকাকালীন আমানতকারীদের থেকে টাকা তুলতেন মন্টি। আস্তে আস্তে সংস্থার প্রধান গৌতম কুণ্ডুর অন্যতম সহযোগী হয়ে উঠেছিলেন। গৌতমের গ্রেফতারির পর মন্টিকে  সিবিআই এবং ইডি-ত তদন্তকারী আধিকারিকরা জেরা করে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হয়ে উঠেছিলেন। 

সূত্রের খব, তদন্ত চলাকালীন সিবিআই ও ইডি-কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন মন্টি। জেলবন্দি গৌতমের সঙ্গে নিয়মিত দেখা করতেন। জেলের বাইরে কাউকে কোনও খবর দিতে হলে মন্টিকেই ভরসা করতেন গৌতম। গৌতম হাসপাতাল থাকাকালীন ছায়ার মতো তার পাশে ছিলেন মন্টি। যদিও গত প্রায় এক বছর ধরে গৌতমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আর আগের মতো ছিল না বলে জানিয়েছেন বর্ণালী।

কাবুলিওয়ালাদের থেকেও টাকা ধার নিয়েছিলেন মন্টি। সেই ঋণ শোধ করতে না পেরেই চরম পথ বেছে নিল কিনা এই যুবক তা নিয়ে সন্দিহান পুলিশ। তবে মন্টির সুইসাইড নোটে এসব কিছুর উল্লেখ নেই। স্ত্রী ও মেয়ে যেন ভাল থাকে, শেষইচ্ছা হিসাবে সেকথাই লিখে গেছেন এই যুবক।