শহরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু অব্যাহত। এবার সন্তান প্রসব করার পর প্রাণ গেল এক কলকাতা পুলিশের এক মহিলা কনস্টেবলের। বুধবার ভোররাতে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান তিনি। পরিবারের লোকেদের দাবি, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। যদিও ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গুর কথা উল্লেখ করেননি চিকিৎসকরা।

মৃতার নাম রুনু বিশ্বাস। বছর আঠাশের ওই গৃহবধূর বাড়ি বাগুইআটির অশ্বিনীনগরের উদয়নপল্লিতে। আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। পরিবারের লোকেদের দাবি,  অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন রুনু। বাড়িতে চিকিৎসাও চলছিল তাঁর। শেষপর্যন্ত অবশ্য রুনুকে ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে।  দিন চারেক আগে বাইপাসে ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন ওই গৃহবধূ। কিন্তু, তিনি যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত, তা চিকিৎসকরাই বুঝতেই পারেননি বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকেদের বক্তব্য,  বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রুনু বিশ্বাসের প্রসবও করিয়ে দেওয়া হয়। আর তাতেই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে।  প্রসবের ধকল সহ্য করতে পারেননি রুনু। কন্যাসন্তানের মা হওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শেষপর্যন্ত বুধবার ভোর রাতে হাসপাতালে মারা যান রুনু বিশ্বাস। ঘটনার শোকের ছায়া নেমেছে বাগুইআটির অশ্বিনীনগরের উদয়নপল্লিতে।

 শীতের মুখে শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। মারাও যাচ্ছেন অনেকেই।  দিন কয়েক আগে ডেঙ্গুর আক্রান্ত হয়ে মারা যান খোদ কলকাতা পুরসভারই এক আধিকারিক।  উত্তর ২৪ পরগণার খড়দহের বাসিন্দা শান্তনু মজুমদার কলকাতা পুরসভার সদর দফতরে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ থাকার পর শান্তনুকে ভর্তি করা হয়েছিল বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। কলকাতা পুরসভার ওই আধিকারিককে আরও বাঁচানো যায়নি। শুক্রবার সকালে হাসপাতালে মারা যান তিনি।  উল্লেখ্য খোদ কলকাতা পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, শহরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাইশশো ছাড়িয়ে গিয়েছে। পুরকর্তাদের দাবি, বছর চেষ্টা চালিয়ে শহরবাসীদে সচেতন করা যাচ্ছে না। সচেতনতার অভাবেই শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে।