চাইলে শীতকালেও টকদই খাওয়া যায়। কোনও অসুবিধে নেই। তবে খুব শীতে অনেকেই টকদই  খেতে চান না। ভাল কথা। এবার তো গরম পড়তে চলেছে। আর কোনও চিন্তা নেই। টকদই খান নিয়ম করে।

বলে রাখা ভাল, টকদইয়ের কিন্তু অনেক উপকার। ওজন কমাতে দারুণ কাজ করে টকদই। ভাতের পাতে খেতে পারেন টকদই। নইলে পাতলা করে বাঙালি কায়দায় ঘোল করেও খেতে পারেন। তবে ঘোল করে খেলে চিনি দেবেন না। দিলেও খুব অল্প। বরং এক চিমটে নুন দিন। দেখবেন গরমে আরাম পাবেন।

ওজন কমাতে দারুণ কাজে দেয় টকদই। তবে শুধু ওজন কমাতেই নয়, পেটের পক্ষেও এটি একটি মহৌষধ। এমনকি পেটের অসুখে হাসপাতালে পড়ে থাকলেও এখন অনেক সময়েই স্য়ালাইনে করে দেওয়া হয় টকদই।

এই টকদইতে থাকে প্রোবায়োটিক। প্রোবায়োটিক হল এক ধরণের উপকারী জীবাণু। এই জীবাণু আমাদের অন্ত্রে থাকে খাবার হজম করানোর জন্য়।  কিন্তু অনেক সময়ে স্ট্রেস বা নানা কারণে এই জীবাণুর সংখ্য়া কমে যায়। যাদের ইরেটেবল বাওয়েল সিনড্রোম থাকে, তাদের অন্ত্রেও এই প্রোবায়োটিকের পরিমাণ কমে যায়। তাই বাইরে থেকে প্রোবায়োটিকের দরকার হয়। তাই টকদই খেতে বলা হয় পেটের সমস্য়ায়। তবে হ্য়াঁ, মিষ্টি দই নয়, টকদই খান। কারণ মিষ্টি দইতে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি। যা শুধু ওজন বাড়ায় না, সেইসঙ্গে দইয়ের উপকারিতাও কমিয়ে দেয়। তবে বাড়িতে পাততে না-পারলে, আজকাল দুধের দোকানে যে প্য়াকেটের টকদই পাওয়া যায়, তা-ও কিনে আনতে পারেন। আবারও বলছি, সামান্য় একটু চিনি দিতে পারেন দইয়ে, তবে বেশি চিনি দিলে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হবে না। চিনি ওজন বাড়াবে, সেইসঙ্গে অ্য়াসিডির সমস্য়াও তৈরি করবে। ওই জন্য় দোকানের তৈরি লস্য়ি খেতে ভাল হলেও তাতে খুব কিছু উপকার নেই। পারলে স্টিভিয়া ব্য়বহার করতে পারেন দইয়ে, যা ন্য়াচারাল সুগার ফ্রি। তবে নুন দিয়েই দই খাওয়া অভ্য়েস করুন। চাইলে টকদইয়ে একটু চাটমশলা মিশিয়ে দিতে পারেন। দারুণ লাগবে। শশা দিয়ে রায়তা করতেই পারেন। তবে সব সময়ে শশা দিয়েই যে খেতে হবে টকদই, তেমন কোনও কথা নেই।

যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য়ের সমস্য়া রয়েছে তাদের এখন নিয়মিত টকদই খেতে বলা হয়। জানবেন, টকদই সামগ্রিকভাবে আমাদের হজম শক্তিকে চাঙ্গা করে। এবং চাইলে, শীতকালেও খাওয়া যায় এই টকদই। তবে বলাই বাহুল্য়, গরমে আরও রেলিশ করে খেতে পারবেন এই দই।