কিডনি স্টোন একটি সাধারণ সমস্য়া। সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের মধ্য়েই এই সমস্য়া দেখা দেয়। তুলনামূলকভাবে বাচ্চা  ও মহিলাদের মধ্য়ে এই রোগের প্রকোপ কম। মহিলাদের মধ্য়ে ইস্ট্রোজেন হরমোন বেশি থাকে। লিভার থেকে বেশি পরিমাণে সাইট্রিক অ্য়াসিড ক্ষরণে এই হরমোন সাহায্য় করে। এই সাইট্রিক অ্য়াসিড ক্য়ালশিয়াম  ডিসলভ করে দেয়। যার ফলে কিডনিতে স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। পুরুষদের মধ্য়ে ইস্ট্রোজেন হরমোন থাকে খুব কম।  যার জন্য়ে এই প্রক্রিয়াটি পুরুষদের মধ্য়ে হয় না বললেই চলে। সেই কারণেই পুরুষদের মধ্য়ে কিডনির স্টোন হওয়ার প্রবণতা বেশি।

বাচ্চাদের জেনেটিক সমস্য়ার কারণে রেনাল হাইপারক্য়ালশিইউরিয়া হয়। এটি আর কিছুই নয়, ইউরিনে ক্য়ালশিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কিডনি স্টোনে সাধারণত তীব্র ব্য়থা হয়। এই ব্য়থাটি একটু অন্য়রকম। কোমর থেকে ব্য়াথাটি কুঁচকির দিকে যায়।  এই ব্য়থা আচমকাও হতে পারে আবার ধীরে ধীরেও হতে পারে। তবে এই ব্য়থা যে সমসময়ে তীব্রই হবে, এমন কোনও কথা নেই। অনেকে এই সমস্য়ায় সামান্য় ব্য়থাও অনুভব করতে পারেন। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিক, তাদের ব্য়থার কোনও অনুভব থাকে না।  অনেক সময়ে ইউরিনে ব্লাড আসে। এটাও কিন্তু কিডনি স্টোনের একটি লক্ষণ।

কিডনি স্টোন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য় কী কী খাবেন, জেনে নিন।

ডাবের জল খান নিয়মিত। এতে পটাশিয়াম ও ম্য়াগনেশিয়াম থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে। এগুলি কিডনিতে স্টোন তৈরিতে বাধা দেয়। গাঁজর, করলার মতো সবজিতেও থাকে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল, যা স্টোন তৈরি হতে দেয় না। কলাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-বি-৬। যা স্টোন তৈরিকে প্রতিরোধ করে। লেবু, তা যে লেবুই হোক না কেন নিয়মিত খাওয়া উচিত। কারণ এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রেট। যা স্টোন তৈরিতে বাধা দেয়। আনরসে এমন একধরনের এনজাইম থাকে, যা কিডনির স্টোন তৈরি হতে দেয় না। পটাশিয়াম ও ম্য়াগনেশিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে আমন্ডে। এটিও স্টোন তৈরিতে বাধা দেয়। বার্লি, ওটস, এরাও স্টোন প্রতিরোধী। আর হ্য়াঁ, সব শেষে বলতে হয়, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খান রোজ।

কী কী খাবেন না তা জেনে নেওয়া যাক।

টমেটো, পালংশাকের মতো শাকসবজিতে থাকে অগ্জালেট। যা কিডনিতে স্টোন তৈরির  উপযোগী। ফুলকপি, বেগুন, মাশরুমে থাকে প্রচুর পরিমাণে ইউরিক অ্য়াসিড ও পিউরিন। সবেদা, কুমরো, আঙুরেও প্রচুর পরিমাণে থাকে অগজালেট, ইউরিক অ্য়াসিড ও পিউরিন। যা স্টোন তৈরি হওয়ার জন্য় দায়ী। পাঁঠার মাংশ, মুরগির মাংশ, কাজুবাদাম, ডিম, চকোলেট, কফি, চা, কোকো বাদ দেওয়া দরকার। তবে মনে রাখবেন, যাঁরা স্টোনের সমস্য়ায় ভুগছেন, তাঁরাই কেবল এগুলি এড়িয়ে চলবেন। নইলে অযথা এই শাকসবজিগুলিকে বাদ দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।