গরম কালে বাজারে গিয়ে রোজ কয়েকটা আম না কিনলে বাঙালির বাজার-শিল্পই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সকালে আমের সরবৎ, বা দুপুরে দুধ ভাতে আম, অথবা সন্ধে গোটা আম, কত ভাবেই না এই অমৃত সম ফলের স্বাদ উপভোগ করা যায়। তাই যতদিন গরম আছে আম খাও বলে লেগে পড়েন অনেকেই।  

ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল, এ ছোট থেকেই শিখিয়ে দেওয়া হয়। আমেরও রয়েছে নানা গুণ। কিন্তু তা বলে আম খাওয়াতে লাগাম না টানলে ফলাফল মোটেই সুখকর হয় না। মাত্রা ছাড়া কোনও কোনও কিছুই ঠিক না। তেমনই মাত্রাধিক আম খেলে শরীরে ক্ষতিও হতে পারে। জেনে নেওয়া যাক সেগুলি কী- 

১) ডায়াবেটিসের রোগীরা সতর্ক হোন। আম ব্লাড সুগার লেভেল বাড়িয়ে দেয়। ফলে অতিরিক্ত আম খেলে চট করে ব্লাড সুগার লেভেল অনেকটা বেড়ে গিয়ে শরীর খারাপ করতে পারে। 

২) আমে অনেকের অ্যালার্জির সমস্যায় পড়তে হয়। আম থেকে অনেকের হাঁচি, সর্দি কাশি ইত্যাদি হতে পারে। এছাড়া আমের গায়ে একধরনের কষ জাতীয় আঁঠা থাকে। আম খাওয়ার সময়ে তা যদি মুখে লেগে যায়, তা থেকে চুলকুনি হতে পারে। এছাড়া মুখে এই কষ থেকে অনেক সময় দাগও হতে পারে। 

৩) আম খেলেও গোটা খাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেকে আমের থেকে আমের জুস করে খান। কিন্তু এতে আমের মধ্য়ে অবস্থিত ফাইবারগুলি নষ্ট হয়ে যায়। যার জন্য আমের কোনও গুণ শরীরে লাগে না। উপরন্তু পেটের সমস্য়া হয়। 

৪) এখন কৃত্রিম ভাবে আম পাকানো হয়। ক্য়ালশিয়াম কার্বাইড ব্য়বহার করা হয়। এই রাসায়নিকগুলি ব্য়বহরের ফলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। শরীরে গোপনে বড় রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

৫)) অতিরিক্ত আম খেলে হজমের সমস্য়া পড়তে হয়। রোজ বেশি পরিমাণে আম খেলে হজম শক্তির উপর তার প্রভাব পড়ে। 

৬) আর্থরাইটিস বা বাতের ব্য়থায় যাঁরা  ভোগেন তাঁরা আম এড়িয়ে চলুন। আম খেলে ব্য়থা বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। 

৭) আমে ভিটামিন সি ও ক্য়ালরি দুইয়েরই পরিমাণ যথেষ্ট থাকে।  কিন্তু যাঁরা ওবেসিটির সমস্য়ায় ভুগছেন এবং ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাঁদের পক্ষে বেশি আম খুব একটা ভাল না। হাজার ডায়েট কন্ট্রোল করেও মাত্রাধিক আম খেলে ওজন কমানো মোটেই সুবিধাজনক নয়।