প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত চালের গুঁড়ো ত্বককে মসৃণ, পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে, মৃত কোষ দূর করে এবং বলিরেখা কমাতে কার্যকরী। এই প্রবন্ধে চালের গুঁড়োর ফেস প্যাক তৈরির বিভিন্ন পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।

মুখের বলিরেখা দূর করতে এবং ত্বককে রক্ষা করার জন্য চালের গুঁড়ো প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মসৃণ, পরিষ্কার এবং উজ্জ্বল ত্বক পেতে চালের গুঁড়োর ফেস প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে।

চালের গুঁড়ো নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা না কমিয়েই অতিরিক্ত তেল শুষে নেয় এবং মৃত কোষ দূর করে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চালের গুঁড়ো উজ্জ্বল ত্বক, ভালো টেক্সচার এবং ত্বকের রঙের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চালের গুঁড়োর মধ্যে হালকা খসখসে ভাব রয়েছে, যা আলতোভাবে মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। 'অ্যাডভান্সেস ইন সোশ্যাল সায়েন্স, এডুকেশন, অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ রিসার্চ' জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে চালের গুঁড়োর ফেস প্যাক ত্বকের গঠন উন্নত করে এবং ত্বকের রঙ ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর প্রাকৃতিক এনজাইম সময়ের সাথে সাথে ত্বকের অনুজ্জ্বল ভাব এবং হালকা পিগমেন্টেশন দূর করতে সাহায্য করতে পারে।

চালের গুঁড়োর ফেস প্যাক ত্বককে শুষ্ক না করেই তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রণ করে। যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণ-প্রবণ, তাদের জন্য চালের গুঁড়ো খুব উপকারী হতে পারে। এটি অতিরিক্ত সিবাম শোষণ করে, খোলা ছিদ্র বন্ধ করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে সতেজ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখে।

চালের গুঁড়োতে প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। দুই চামচ চালের গুঁড়োর সাথে সামান্য দই মিশিয়ে মুখ ও গলায় লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্য একটি উপযুক্ত প্যাক।

চালের গুঁড়োতে ভিটামিন ই-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে সাহায্য করে, সূক্ষ্ম বলিরেখা কমায় এবং নিয়মিত ব্যবহারে ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও তরুণ রাখে।

২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়োর সঙ্গে ১ টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট রাখুন। তারপর ধুয়ে ফেলুন। ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি এবং গোলাপ জল মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। ৫-১০ মিনিট রেখে তারপর ধুয়ে ফেলুন।