ঈশ্বরের উল্কি করানো কি সত্যিই অশুভ? শাস্ত্র ও জ্যোতিষ মতে শরীরে ধর্মীয় উল্কি করার সঠিক নিয়ম, কোন জায়গায় করা উচিত আর কোন জায়গায় নয়—জেনে নিন বিস্তারিত।

ঈশ্বরের উল্কি করানো নিয়ে বিভিন্ন ধর্ম ও শাস্ত্রের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। মূলত, এটি অশুভ কিনা তা নির্ভর করে ধর্মীয় বিশ্বাস ও উল্কির স্থান ও নকশার উপর। যেখানে অনেক শাস্ত্রমতে পবিত্র স্থানে বা অসম্মান জনক ভাবে উল্কি করা অশুভ। যা ঈশ্বরের অসম্মান করে, তাই বুক বা পিঠের উপরের অংশ, যেখানে সম্মান থাকে, সেখানে করা যেতে পারে, কিন্তু পবিত্র চিহ্ন বিকৃত করা চলবে না এবং কিছু ধর্মে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

কেন ধর্মীয় উল্কি নিয়ে সতর্কতা?

* পবিত্রতা ও অপবিত্রতা: ধর্মীয় উল্কি, যেমন ঈশ্বরের নাম বা ছবি, শরীরের এমন অংশে করা উচিত নয় যা অপবিত্র হতে পারে (যেমন পা বা নিম্নাঙ্গ)।

* বিকৃতি ও অসম্মান: উল্কির নকশা যদি বিকৃত হয় বা অসম্মান জনক ভাবে আঁকা হয় (যেমন, এমন জায়গায় যেখানে পোশাকের নিচে থাকে বা যা স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে), তবে তা অশুভ বলে বিবেচিত হতে পারে।

* পাগানিজম ও কুসংস্কার: বাইবেলের পুরাতন নিয়মে, উল্কি ছিল কাফেরদের ধর্মীয় প্রথা, যা থেকে ইস্রায়েলীয়দের আলাদা থাকতে বলা হয়েছিল, তাই আধুনিক প্রেক্ষাপটে এর অর্থ ভিন্ন হলেও, মূল সতর্কতাটি রয়ে গেছে।

শাস্ত্রসম্মত নিয়ম ও সতর্কতা:

১. স্থানের গুরুত্ব: বুক, পিঠের উপরের অংশ, বা বাহুর উপরের অংশ যেখানে পবিত্রতা বজায় থাকে, সেই স্থানগুলি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য।

২. নকশার শুদ্ধতা: ঈশ্বরের নাম, মন্ত্র বা প্রতীক যেন বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৩. সম্মান: উল্কি এমন জায়গায় নয় যেখানে তা সহজে বোঝা যাবে না বা যা অসম্মানিত হতে পারে, যেমন যৌনাঙ্গ বা পা।

৪. হিন্দু ও অন্যান্য ধর্ম: হিন্দু ধর্মানুসারে, 'ওম' বা স্বস্তিকার মতো চিহ্ন স্থায়ীভাবে ট্যাটু করা উচিত নয়, কারণ এটি সম্মান ও পবিত্রতার বিষয়।

মূল কথা: ধর্মীয় উল্কি করানো অশুভ কিনা, তা আপনার বিশ্বাস ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। শাস্ত্রের মূল বার্তা হলো, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি ও সম্মান যেন উল্কির মাধ্যমে অসম্মানিত না হয়, বরং তা যেন আপনার বিশ্বাসকে প্রকাশ করে, কিন্তু সেই প্রকাশ যেন শালীন ও শাস্ত্রসম্মত হয়।