করোনা আবহে বেশ কয়েক মাস ঘরবন্দি তিলোত্তমা-সহ গোটা দেশ। এর মাঝেই সময় হয়ে এল মা দূর্গার আগমনের। উমার বাড়ি ফেরা মানে শুধুই কি আনন্দ উতসবেই সীমিত থাকা ? নাকি উমার বাড়ি ফেরা কে ঘিরে আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে সামাজিক কোনও না কোনও দায়বদ্ধতা থেকে যায় পুজো কমিটি এবং ক্লাব গুলোর মধ্যে? অবশ্যই কোথাও গিয়ে এই দায়বদ্ধতা থাকে বলেই, বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপস্থাপনাগুলো শুধু মাত্র জাঁকজমকে আটকে না থেকে বৃহৎ সামাজিক প্রেক্ষাপটকে জনসাধারণের সামনে বার বার ফুটিয়ে তোলেন তাঁরা। সেরকমই দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম সেরা পুজো গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য  বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লী ও কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট ক্লাব-এর পুজো।

কলকাতায় এই প্রথম তিনটি ক্লাব কমিটির পুজো হবে একসঙ্গে। বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লী ও কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট ক্লাব-এর পুজো একই সুতোয় বাধা থাকবে এই বছরের পুজোয়। এই বছর পুজোয় তিনটি ক্লাব সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষের প্রাক্কালে তাঁর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করবে। আর তাই এই বছরের পুজোয় এই তিনটি ক্লাবের বিশেষ থিম 'অপুট্রিলজি'। এর অর্থ দক্ষিণ কলকাতার এই তিনটি জনপ্রিয় পুজোয় ফুটে উঠবে সত্যজিত রায়-এর কালজয়ী সৃষ্টি। বাদামতলা আষাঢ় সংঘে থাকছে 'পথের পাঁচালি', ৬৬ পল্লীতে দেখা যাবে 'অপরাজিত' ও কালীঘাট নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিট ক্লাবে ফুঁটে উঠবে 'অপুর সংসার'। এই গোটা বিষয়টিই আইএফএসডি-র কর্ণধার  শ্রীমৃদুল পাঠক-এর মস্তিষ্ক প্রসূত। 

করোনা মহামারি আবহে সোশ্যাল ডিসটেন্সিং ও বিধি নিষেধ মানতেই আরও এক অভাবনীয় পরিকল্পনা নিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। এই তিনটি পুজোয়, কলকাতা তো বটেই গোটা বাংলায় তথা দেশে এই প্রথম ‘ড্রাইভ ইন দর্শন’-এর এক অভাবনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই রাস্তার ওপর পরপর তিনটি ক্লাবে গাড়ি নিয়ে যারা ঠাকুর দেখতে আসবেন তারা গাড়িতে বসেই ঠাকুর দেখতে পারবেন। আর যারা পায়ে হেঁটে ঠাকুর দেখতে আসবেন তাদের জন্য থাকবে বিশেষ স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা।