গ্রীষ্মপ্রধান দেশে যারা থাকেন, তারা বোধ হয় অনেকেই একবার না একবার স্বপ্ন দেখেছেন যে, ঘুরতে ঘুরতে এসে পড়েছেন বরফঢাকা কোনও জায়গায়। আর সেই মুহূর্তে যদি ঘুমটা ভেঙ্গে যায়, মনে পড়ে ঘেমে নেয়ে অফিসে যাওয়ার মুহূর্তটা, তখন মাথাটা যতটা গরম হয়, তা বোধ হয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এই গরম মাথাকে ঠাণ্ডা করতে, মুড একেবারে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা কুল কুল করতে বরফ ঢাকা স্টেশন না হোক, বরফ ঠাণ্ডা আইসক্রিমে ডুব দিতেই পারেন। আর আইসক্রিম যাদের পছন্দ তাদের জন্য রইল একটা সুখবর। এবার কলকাতায় হাজির ফ্রুক্টভিল-এর আইসক্রিম। 

শেষ পাত হোক কিমবা শুধু এমনিই, আইসক্রিমে ডুবতে চায়না এমন মানুষ খুব কম রয়েছেন। একটা সময় ছিল যখন সবাই স্কুলের ঘণ্টা পড়ার অপেক্ষায় থাকতো, কতক্ষণে ঠাণ্ডা আইসক্রিমে হারিয়ে যাওয়া যায়, সে যতই ঠাণ্ডায় দাঁত কিড়মিড় করুক না কেন। তবে এখন স্কুল ছুটির অপেক্ষা, বা শুধু গ্রীষ্মকালই নয়, সারা বছরই চাইলেই আইসক্রিম। বিভিন্ন আউটলেটে বিভিন্ন ধরণের আইসক্রিমে এবার তালিকায় যুক্ত হল ফ্রুক্টভিল আইসক্রিম। 

সারা ভারতের মোট ২৭ টা আউট লেটে  সাফল্যের পর ফ্রুক্টভিল এবার কলকাতায়। তবে এই ডেসার্ট পার্লার-এ যাওয়া মানে ক্যান্ডি স্টোরে যাওয়ার সমান। আপনি ইতালিয় জিলেটোসের সঙ্গে ১৫ টিরও বেশি স্বাদের পপসিকেলে হারিয়ে যাবেন। এর মধ্যে যেগুলি সবথেকে বেশি আকর্ষণীয় সেগুলি হল- ট্যাংগি অরেনজ পপসিকল, থ্রি বেরিস পপসিকল,ম্যাঙ্গো জিল্যাটো,  ব্লু বেরি জিল্যাটো, টেমারিন্ড চিলি পপসিকল, স্ট্রবেরি জিল্যাটো, বেলজিয়াম ডার্ক চকোলেট জিল্যাটো।    

তবে আইসক্রিম খেলে শুধুই মনের আনন্দ তা নয়, এর উপকারিতাও কিন্তু রয়েছে যথেষ্ট-

১। আইসক্রিম খেলে মস্তিষ্ক সেরোটোনিন এবং ডোপামাইন হরমোন নিঃসরণ করে। এই দুটি হরমোনই মুড ভাল থাকার প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল বেলা আইসক্রিম খেলে আমাদের স্নায়ু অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয় হয়।পাশাপাশি  থ্রমবোটনিন হরমোন ক্ষরণ করতে সাহায্য করে। এই হরমোন সুখি হরমোনের তালিকাভুক্ত। তাই তা ক্ষরণেও মন খুশি থাকে এবং মানসিক চাপ কমে।   

২) আইসক্রিম হল দুগ্ধজাত খাদ্য। আর দুধ মানেই তাতে রয়েছে ক্যালশিয়াম ও ফসফরাস। যা আমাদের হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে। আইসক্রিম দেয় ইনস্ট্যান্ট এনার্জি। খুব ক্লান্ত শরীরে আইসক্রিম খেলে চাঙ্গা লাগবে কারণ এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট।  

৩) আইসক্রিমে রয়েছে একগুচ্ছ ভিটামিন। ভিটামিন এ, ডি, কে, বি-৬, বি-১২ এবং ভিটামিন-ই ছাড়াও আইসক্রিমে থাকে নিয়াসিন, থায়ামিন এবং রাইবোফ্ল্যাভিন ভিটামিন। ভিটামিন 'কে' রক্ত জমাট বাঁধা থেকে শরীরকে বাঁচায়। এ ছাড়াও বিভিন্ন আইসক্রিমে থিমাইন এবং রিবোফ্লেভিন থাকে।

৪) অনেকেই ভাবেন আইসক্রিম খেলে মানুষ বোধ হয় মোটা হয়ে যায়। আসলে কিন্তু তেমনটা নয়।  ঠান্ডা কোনও কিছু খাওয়ার পরে শরীর অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন করে যাতে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকে। আর ক্যালোরি বার্ন করা মানেই ওজন কমানোর প্রাথমিক ধাপ। তাই পরিমাণ বুঝে আইসক্রিম খেলে তা ওজন কমাতে সাহায্যও করতে পারে।