সংক্ষিপ্ত
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যেমন জাঙ্ক ফুড গ্রহণ এবং অনিয়মিত খাবার খাওয়া, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায়। স্ট্রেস ইটিংয়ের কারণে কর্টিসল হরমোন বেড়ে গিয়েও সমস্যা হয়।
বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সকলেই প্রায় খাওয়া নাওয়া ভুলে লেগে রয়েছে কেউ কাজে, কেউ বা পড়াশোনায়। অবেলায় খাওয়া, সহজলোভয়টার কারণে কিংবা স্বাদ বদলের জন্য বাইরের খাওয়ার ভীষণ চাহিদায় এখন। আবার অনেকেই এমন আছেন একবেলা বেশি পরিমাণে খাবার খেয়ে বাকি দিনটা না খেয়ে বা অনেকটা দেরিতে কিছু খেয়ে থাকেন। অবকের হয়তো সারাদিন কিছু না খেয়ে, দিন শেষে মুখে খাওয়ার তোলেন। এতে মনে হয় যেন কম খাচ্ছেন, ওজন বাড়বে না। অথচ জানেন কি এটাই সব থেকে বেশি ক্ষতি করছে। খারাপ খাদ্যাভ্যাস এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবযুক্ত খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘকালীন রিগের ঝুঁকি তো বাড়ায়ই, এছাড়াও পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ায় বা গর্ভধারণকে কঠিন করে তোলে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস যেভাবে বন্ধ্যাত্বকে প্রভাবিত করে :
১. বাইরের অস্বাস্থ্যকর তেল মশলা যুক্ত প্যাকেজেড খাবার বেশি খেলে কোলেস্টেরল – ট্রাইগ্লিসারাইড, ফ্যাটি লিভার, সবই বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে৷ অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCODs)-এর কারণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে জরায়ুতে জমতে থাকা সিস্ট মারাত্মক আকার নিলে তা বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
২. শুধু জাঙ্ক ফুড নয়, অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস অসুস্থতা ডেকে আনতে আপনার শরীরে। কাজের চাপে দীর্ঘক্ষন না খেয়ে থাকা, রাত জেগে কাজ বা ভীষণ চাপের মধ্যে কাজ করেন যারা তাদের অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস থাকে। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে প্রক্রিয়াজাত এবং সহজলভ্য জাঙ্ক ফুডের ওপরেই ভরসা বেশি করতে হয়।
৩. Stress Eating এর সময় নিঃসৃত কর্টিসল হরমোন উচ্চ-কার্ব, উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি লালসা ও চাহিদা বাড়ায়। এই স্ট্রেস ইটিং বা বিঞ্জ ইটিং কেবল ক্যালোরি গ্রহণই বাড়ায় না বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের ভরসাম্যর অবনতিও ঘটায়।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আনবেন কীভাবে?
১. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ : রোজকার খাওয়ার তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাওয়ার যোগ করতে হবে। প্রোটিন সমৃদ্ধ খাওয়ার পেট ভর্তি থাকার ইঙ্গিত দেয়। ফলে বার বার মিছে খিদে পায় না।
২. খাওয়ারে মনোযোগ দিন : খাওয়ার সময় শুধুমাত্র খাওয়ারে মনোযোগ দিন। আসতে আসতে সঠিকভাবে চিবিয়ে খাওয়ার খান। খাওয়ার ওপর মনোযোগ দিলে কি খাচ্ছে, কতটা খাচ্ছেন তা বুঝতে পারবেন। অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
৩. স্বাস্থ্যকর বিকল্প : মিষ্টি বা স্পইসি জাঙ্ক ফুডের ক্রেভিংস হলে তার বিকল্প স্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়ার হদিশ করুন। যেমন বাইরে কোনো সফ্ট ড্রিঙ্কসের পরিবর্তে নুন লেবুর শরবত বা লস্যি, প্যাকেজেড স্ন্যাকের বদলে পপিকর্ন বা মাখনা খেতে পারেন, ড্রাইফ্রুটস বা পছন্দের কোনো ফল ও খরতে পারেন।
৪. কী ধরণের খিদে তা বুঝতে হবে : প্রতি বার পাওয়া খিদে আসলেই খাবার খাওয়ার খিদে হয়না। মস্তিস্ক অনেকসময় ভুল সংকেত পাঠায়। দীর্ঘক্ষন জল না কগেলে অনেকসময় তেষ্টা পেলেও মস্তিস্ক খিদের ইঙ্গিত দেয়। তাই ঘন ঘন খিদে পেলে আগে কিছুটা জল খেয়ে দেখুন, খিদে চলে গেলে বুঝতে পারবেন ওটা তেষ্টা পেয়েছিলো আসলে।
৫. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ : দীর্ঘ মেয়াদি মানসিক চাপ, শর্করা বা ক্যালোরি যুক্ত খাবারের চাহিদা বাড়ায়। স্ট্রেস কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ায় যা স্থূলতার কারণ। তাই সর্ব প্রথম স্ট্রেস কমান। নিজেকে সময় দিন, ভালো খাদ্যভ্যাস ও ব্যায়াম, দরকারে মেডিটেশন করুন। পছন্দের কাজের প্রতি মনোযোগ দিন। মন ভালো থাকবে।
৬. ব্যালেন্সড খাদ্যভ্যাস : রোজকার খাদ্যতালিকায় শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য যোগ করুন। রোগা হবেন বা শরীর সুস্থ রাখবেন বলে বার বার খাবারের ক্যালোরি গণনা করা বন্ধ করুন। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়াও নিয়ন্ত্রণ করুন। এসব নিয়ন্ত্রণ থাকলে স্বাস্থ্যকর শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রিত থাকবে যা আপনার শরীরে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাবে।