চোখ নিয়ে আমাদের ভাবানার অন্ত নেই। চোখের সুরক্ষার জন্য় অনেক কিছুই করতে হয় আমাদের। নিয়মিত পাওয়ার চেকআপ, চশমা বদলানো, বাইফোকাল লেন্স, কতকিছু। কিন্তু বড়দের চোখের জন্য় যখন এত কিছু করতে হয়, তখন ছোটদের চোখ যেন ফেলনা হয়ে পড়ে থাকে পাশে। অথচ, ছোটবেলা থেকে যত্ন না-নিলে বড় হয়ে অনেক তাড়াতাড়ি চোখের স্বাস্থ্য় খারাপ হবে।

তাহলে কী করে ছোট চোখের যত্ন নেবেন, তা বলি।

প্রথমেই বলি, আশির দশক থেকে  যখন ঘরে ঘরে টেলিভিশন সেট আসতে শুরু করল, তারপর থেকেই ছোটদের চোখে যেন আরও বেশি করে উঠে এল চশমা। নব্বইয়ের দশক থেকে তো আর কথাই নেই। মেট্রো চ্য়ানেল থেকে কেবল চ্য়ানেলের দাপটে ছোটদের চোখের বারোটা বেজে গেল। আর তারও পরে, কম্পিউটার, স্মার্টফোন আর ট্য়াবলেটে গেম খেলার দাপটে যেটুকু অবশিষ্ট ছিল ছোটদের চোখ, সেটুকুও গেল। এমতাবস্থায় এখন ছোট্ট বয়স থেকেই চশমা। তিন-চার দশক আগে ছোটদের মধ্য়ে কাউকে চশমা পরা দেখলেই একটা কৌতূহল হত। স্কুলে বন্ধুরা আলাদা সম্মান দিত। এখন তো প্রায় সব্বারই চশমা।

তাই প্রথমেই বলে নেওয়া উচিত, খুব দরকার ছাড়া কম্পিউটারের সামনে বসার দরকার নেই। ভিডিয়ো গেমসের নেশা যতটা সম্ভব, কমিয়ে ফেলা উচিত। তার বদলে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে খেলাধুলো করা দরকার। আর একান্তই যদি সেই সুযোগ না-থাকে, তাহলে বাড়িতে আপনার বাচ্চার সঙ্গে লুডো খেলুন, ক্য়ারাম খেলুন, নানারকম ইনডোর গেমস খেলুন। দেখবেন, খুব বেশিক্ষণ স্ক্রিন শেয়ার না-করলে আপনার বাচ্চার চোখ এমনতিতেই অনেক ভাল থাকবে।

এরপরেও অবশ্য় কিছু বিষয়ে নজর রাখতে হবে। যেমন ছোট থেকে যেন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানো হয় পর্যাপ্ত পরিমাণে। আমিষ, নিরামিষ নির্বিশেষে কিন্তু ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। চাইলে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়াতে পারেন পর্যাপ্ত পরিমাণে। বেশ কিছু শাকসবজি ও ফলমূলেও যথেষ্ট পরিমাণে থাকে এই ভিটামিন-এ।

সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাওয়ান ছোটদের। সবুজ শাক অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে আমাদের চোখকে রক্ষা করে। পুঁটি-মৌরলার মতো কুঁচো মাছ চোখকে ভাল রাখে। মাঝেমধ্য়ে  ওই ধরনের মাছগুলো খাওয়ানোর চেষ্টা করুন আপনার বাচ্চাকে। শীতকালে যখন গাঁজর পাওয়া যায়, তখন তা নিয়মিত খাওয়ান আপনার বাচ্চাকে। চোখের পক্ষে ভীষণ উপকারী এই গাঁজর।