দূর্গাপুজোর আছে নানান রীতিনীতি। যে সব রীতিনীতি মেনে দেবী বন্দনা হয়ে থাকে তা অনেকেরই অজানা। সেইরকমই কিছু অজানা মুহুর্ত সম্পর্কে জেনেনিন কিছু তথ্য।

কল্পারম্ভ: কল্প বলেতে বোঝায় সংকল্প আর আরম্ভ অর্থাৎ শুরু। আর সেই থেকেই এসেছে কল্পারম্ভ। অর্থাৎ কল্পারম্ভ হল এমন এক মুহুর্ত যখন সংকল্পকরা হয়ে থাকে। এই সংকল্প হচ্ছে পুজোর কয়াকটা দিন নিষ্ঠা সহকারে পুজো করার সংকল্প। মহাষষ্ঠীর দিন সকালে আমরা মন্ডপের এক কোণে ঘট দেখতে পাই। দেবীর আরাধনায় যে পবিত্র সংকল্প করা হয়, ঘট হল তারই সাক্ষী। মহাষষ্ঠীর এই কল্পারম্ভকে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ বলা হয়ে থাকে। 

বোধন: পঞ্জিকা মতে মহাষষ্ঠীর গোধূলি লগ্নে হয় দেবীর বোধন।

আমন্ত্রণ ও অধিবাস: আমন্ত্রণ অর্থে বোঝানো হয় পুজো গ্রহণ করার আবেদন। এই আমন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে দেবীর উদ্দেশে যা উৎসর্গ করা হবে তা যেন তিনি গ্রহণ করেন। 

অধিবাস বলতে আবার বোঝায় বসত করা। আমরা সবাই দেখতে পাই লাল সুতো দিয়ে চারটি কঞ্চির মাথা বেঁধে দেওয়া হয়। এই গন্ডিকে মনে করা হয় এটি এমন একটা গন্ডি যা অশুভ শক্তিকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়না। অধিবাসের জন্য বেলপাতা আবশ্যক। অধিবাসে ২৬ টি জিনিস মায়ের পায়ে ছুঁইয়ে পবিত্র করা হয়। 

নবপত্রিকা স্নান: মহাসপ্তীর সকালে এই নবপত্রিকা স্নান হয়ে থাকে। 

কুমারী পুজো: মহাঅষ্টমীর দিন সকালে এই কুমারী পুজো হয়ে থাকে। অবিবাহিত শিশু কন্যাকে মহাশক্তি রূপে আরাধনা করাকেই কুমারী পুজো বলা হয়। শিশু কণ্যাটিকে লাল শাড়ি পড়ে পায়ে আলতা পড়িয়ে পুজোকরাকেই  কুমারী পুজো বলা হয়। 

সন্ধি পুজো ও বলিদান: সন্ধি পুজো দূর্গা পুজোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে যে পুজো হয় তাকেই সন্ধিপুজো বলে। সন্ধিক্ষণ বলতে মহাষ্টমী শেষ হওয়ার আগের ২৪ মিনিট থেকে শুরু করে নবমী শুরু হওয়ার পরের ২৪ মিনিট পর্যন্ত সময়টাকে বোঝায়। 

নবমী পুজোর শেষ দিন। নবমীকল্প অনুসারে এই পুজো হয় মাত্র এক দিনের। আশ্বিনের শুক্ল-নবমীতে এই পুজো হয়। পুজোর শেষদিন তাই এই দিন মহাসমারহে পুজো হয় মায়ের।