২০০৩ সালের ঘটনা।  কিন্তু কোনও ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীই হয়তো ভুলচে পারেনি। মাঠের মধ্যে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ চলাকালে হঠাৎই লুটিয়ে পড়ে যান ভাররতী টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। জানা যায় তিনি নিউরোসিস্টিসেরোসিসে আক্রান্ত। সহজ ভাবে বললে পরজীবী কৃমি মস্তিষ্কে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটিয়েছে। লিয়েন্ডারের মত প্রাপ্তবয়স্করা তো রয়েছেনই, ৮৫ ভাগ ভারতীয় শিশুই কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হয়। অনেক সময় তার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় বাবা মায়ের উদাসীনতা।

শিশু চিকিৎসক সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, "শিশুদের কৃমির বাড়বাড়ন্তের কারণ মাঝে মাঝে হয়ে ওঠেন বাবা মা-ই। শিশুকে কৃমির ওষুধ খাওয়ালে বাবা মা-কেও তা খেতে হয়। অথচ বেশির ভাগ সময়েই বাবা মা এ বিষয়ে গাফিলতি করেন। এমনকী বাড়ির পোষ্যকেও এই ওষুধ খাওয়াতে হবে।"

মানুষের অন্ত্রে বাসা বাঁধা ২-৩ ইঞ্চির এই পরজীবীকে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর মতোই প্রাণঘাতী বলে দাবি করছেন চিকিৎসকরা। কৃমির জীবাণু মূলত ছড়ায় দূষিত খাবার এবং জলের মাধ্যমের। কৃমিতে আক্রান্ত ব্যক্তি বা পশুর মলের থেকেও মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। মাটি থেকে শরীরের চামড়ার মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। অনেক সময় খোলা অবস্থায় রাখা স্যালাড থেকেও ঘটতে পারে বিভ্রাট।  তবে এর থেকে মুক্তি পাওয়ারও ঘরোয়া উপায় রয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক আব্রাম বের জানিয়েছেন, ওষুধ নয়, কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিতেই কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। রইল সেই নিদান।

• কাঁচা রসুন— কাঁচা রসুন অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। রসুন প্রায় ২০ ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ৬০ ধরনের ফাংগাস মেরে ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত কুচনো কাঁচা রসুন খান অথবা রসুনের জুস করে খান। 
• লবঙ্গ— লবঙ্গ কলেরা, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মাকে প্রতিরোধ করতে পারে। এ ছাড়া রোজ লবঙ্গ খেলে ব্যাকটেরিয়া,ভাইরাস, ফাংগাস ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 
• আদা— আদা হজমের সমস্ত রকমের সমস্যা মেটাতে সক্ষম। হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, পেটে ইনফেকশন, ইত্যাদি দূর করতে আদার জুড়ি মেলা ভার। এই সমস্যাগুলিও কৃমি থেকে তৈরি হয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কাঁচা আদার রস খান খালি পেটে। 
• শশার বীজ— ফিতাকৃমি রুখতে শশার দানা সর্বশ্রেষ্ঠ। শশার দানাকে গুঁড়ো করে নিন। প্রতিদিন এক চা-চামচ করে খান। 
• পেঁপে— পেটের সমস্যা দূর করতে পেঁপের থেকে ভাল কিছু হয় না। যে কোনও ধরনের কৃমি তাড়াতে পেঁপের বীজ শ্রেষ্ঠ। ভাল ফল পেতে পেঁপে এবং মধু খান। 
• কাঁচা হলুদ— কাঁচা হলুদ অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে।