​প্রেম দীর্ঘদিনের, কিন্তু মেনে নেবে না যুবতীর পরিবার ৷ কারণ অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল তাঁরা ৷ তাই ​​প্রেমকে পরিণতি দেওয়ার রাস্তা খুঁজছিলেন যুগলে ৷ পালিয়ে বিয়ে করে পরে ফের ফিরতে হবে লোকালয়ে ৷ তাতে সমস্যা দেখা দেবে আদিবাসী সমাজে ৷ তাই শেষমেষ সিদ্ধান্ত যৌথ আত্মহত্যার ৷ বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে মৃত্যু হয় যুবতীর ৷আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন যুবক ৷  

 ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালতোড় ও শালবনির সীমান্তবর্তী কলাইমুড়ির জঙ্গলে। পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যার চেষ্টা করা দুই প্রেমিক যুগলের নাম সাগেন মুর্মু ও পানমনি টুডু। সাগেনের বাড়ি শালবনির কলাইমুড়িতে আর পানমনির বাড়ি বাঁকুড়ার সারেঙ্গায়।দুই জনের বাড়ি জঙ্গলের দুই প্রান্তে ৷ উভয়েরই বয়স ১৮ থেকে ২০র মধ্যে। সোমবার তাদের কলাইমুড়ির জঙ্গলে বিষ খেয়ে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরা৷ তাঁরাই উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালতোড় গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৷ 

সোমবারই  মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল যুবতীর ৷ তবে চিকিৎসায় রক্ষা পেয়ে গিয়েছে যুবক সাগেন৷ তবে তার জটিল পরিস্থিতি এখনও কাটেনি বলে চিকিত্সকদের দাবি ৷ তাই মেদিনীপুর হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ৷ হাসপাতালে বিছানাতেই সে প্রেমিকার শোকে বিচলিত হয়ে উঠছে ৷ পুনরায় আত্মহত্যা করতে পারে ভেবে পরিবারের লোকেরা সবসময়ই তার পাশে রয়েছে ৷ 

হাসপাতালে শুয়ে মঙ্গলবার বিকালে সাগেন বলে- আমরা দীর্ঘদিন ধরে একে অপরকে ভালোবাসতাম ৷ ওর বাড়ির লোকেরা আমাদের মেনে নেবে না ৷ তাই পানমনিই বলেছিল,পালিয়ে বিয়ে করবো না ৷ বেঁচে থেকেও লাভ নেই ৷ দুজনেই আত্মহত্যা করবো ৷ সেই মতোই আত্মহত্যা করতে যাই ৷