হাথরস ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে যখন তোলপাড় চলছে দেশে, তখন এ রাজ্যে চরম নৃশংসতার শিকার হলেন এক তরুণী! ধান জমিতে পড়ে থাকা অর্ধনগ্ন দেহের ছবি ঘুরছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শোরগোল পড়ে দিয়েছে নেটদুনিয়ায়।

প্রথমে টুইটে নাম না করে একহাত নিয়েছিলেন বিজেপিকে। তারপর হাথরাস ধর্ষণকাণ্ডে প্রতিবাদে পথে নামেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। শনিবার কলকাতায় বিড়লা তারামণ্ডল থেকে গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। মিছিল শেষে জনসভায় যথারীতি ফের তুলোধনা করেন বিজেপিকে। বলেন, 'কোনও রাজনৈতিক দলকে উত্তরপ্রদেশের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। সাংবাদিকদেরও আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি। ভোটের সময় বড় বড় কথা বলে বিজেপি, হোটেল খাবার  এনে দলিতদের বাড়িতে বসে খায়। ভোট শেষ হলেই দলিত, নমঃশূদ্রদের উপর অত্যাচার চলে। ওঁরা সকলের পদবি নিয়ে খেলা করছে।' এর আগে হাথরসে নির্যাতিতার বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশি বাধা মুখে পড়েন ডেরেক ও'ব্রায়েন-সহ তৃণমূলের সাংসদরাও।

এদিকে আবার হাথরস ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিকে পাল্টা কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতারাও। আলোচনায় উঠেছে পার্কস্ট্রিট, কামদুনির ঘটনাও। সম্প্রতি আবার ধান জমিতে পড়ে থাকা এক মহিলার অর্ধনগ্ন দেহের ছবিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যিনি ছবিটি পোস্ট করেছেন, তাঁর দাবি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘাটালে ওই মহিলা ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। নাম না করে রাজ্যের শাসকদলকে তাঁর কটাক্ষ, 'যেসব ভদ্রলোক ও ভদ্রমহিলা দেশের মহিলার নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বলছে, তাঁরা মুখে সেলোটেপ আঁটকে রেখেছেন। তাঁরা সদূর উত্তরপ্রদেশের কী ঘটছে, তা দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু নিজের রাজ্যে এক মহিলার করুণ আর্তি কানে পৌঁছচ্ছে না।'

আসল ঘটনাটি কী? সত্যিই কি হাথরসের মতো পরিণতি হল এ রাজ্যের এক তরুণীর? যদি তেমনটা ভেবে থাকেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। একথা ঠিক যে, ওই তরুণী খুন হয়েছেন এবং ধানজমি থেকে তাঁর অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার করেছে। ব্যস এটুকুই, হাথরস ধর্ষণের কাণ্ডে এই ঘটনার আর কোনও মিল নেই। গত ১ অক্টোবর খবরটি প্রকাশিত হয় এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়। পরিবারের লোকেদের দাবি, মৃতার সঙ্গে স্বামীর বনিবনা ছিল না। তাঁর রীতিমতো অত্যাচার করত স্বামী। তাঁদের অভিযোগ, স্বামীই ওই মহিলাকে খুন করে বাড়ি থেক দুই কিমি দূরে ধানক্ষেতে ফেলে রেখে এসেছে। বস্তুত মৃতা যে ধর্ষণের শিকার হননি, সেকথা জানিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারও।