স্কুলের একাদশ শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ওই ছাত্রীকে নিয়ে মাঝেমধ্যেই ঘুরতে তিনি। সেই সুযোগেই ঘুরতে নিয়ে গিয়ে ছাত্রীকে তিনি বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার একইভাবে ছাত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মুখে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে যান ওই শিক্ষক। তারপরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই শিক্ষককে।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই চাঞ্চল্যকর এই অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার অন্তর্গত হরিবাড় গ্রামে। স্থানীয় বসন্তপুর ঝাড়েশ্বর বাণী ভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ মণ্ডলকে শুক্রবার গ্রেফতার করে আদালতে তোলে পুলিশ। প্রধান শিক্ষকের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে। নির্যাতিতে ছাত্রী ওই বিদ্যালয়ের হস্টেলেরই আবাসিক ছিল বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, হস্টেলে থাকাকালীন ওই ছাত্রীকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক আশুতোষ মণ্ডল একাধিকবার ঘুরতে গিয়েছেন। পরিবারের লোকের অজান্তেই শিক্ষকের সঙ্গে বেরিয়ে যেত ওই ছাত্রী। ঘুরতে গিয়েই ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, সরস্বতী পুজোর ছুটি উপলক্ষে ওই ছাত্রী বাড়ি গিয়েছিল। কিন্তু ফোন করে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীকে পুনরায় ঘুরতে যাওয়ার জন্য ডেকে আনেন। সেই মতো ওই ছাত্রী বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের বাড়ি থেকে বাসে করে বেলদা কাঁথি বাইপাস- এর কাছে হাজির হয়। কিছুক্ষণ পরে সেখানে পৌঁছন প্রধান শিক্ষক আশুতোষ মণ্ডল। ওই ছাত্রী শিক্ষকের গাড়িতে ওঠার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তাঁদেরকে আটক করে স্থানীয়রা। কথাবার্তার মধ্যে অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। তারপরে বেলদা থানার পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় লোকজন। পুলিশ ছাত্রী ও শিক্ষক কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ইতিমধ্যে ছাত্রীর পরিবারকেও খবর দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। বৃহস্পতিবার রাতেই বেলদা থানায় ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর পরেই পুলিশ আশুতোষ মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার তাঁকে খড়্গপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।