ছত্রধর মাহাতো এতদিন কেন জেলে রইল সেটাই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের কাছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রশ্ন করা উচিত। রাজনৈতিক স্বার্থেই ছত্রধরকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। 

দীর্ঘদিন হাজতবাসের পর অবশেষে জামিন পেয়েছেন ছত্রধর মাহাতো। তৃণমূলের সঙ্গে ছত্রধরের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। তিনি যে লালগড়ে ফিরে তৃণমূলের হয়েই কাজ করবেন, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন জনসাধারণের কমিটির প্রাক্তন নেতা। ছত্রধরের মুক্তি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুকুল এ দিন মেদিনীপুরে প্রশ্ন করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ন' বছর রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলেও এতদিন কেন মুক্তি দেওয়া হয়নি ছত্রধরকে?

লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে ভরাডুবি হয়েছিল তৃণমূলের। একচেটিয়া দাপট দেখিয়েছিল বিজেপি। ফের জঙ্গলমহলের হারানো জমি ফিরে পেতে ছত্রধরকেই ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে, তা কার্যত স্বীকার করে নিচ্ছেন স্থানীয় নেতারাও। এ নিয়েও এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দিয়েছেন মুকুল। তিনি বলেন, 'ছত্রধরকে ব্যবহার করে তৃণমূল ওই এলাকার দখল নিয়েছিল। ছত্রধর এতদিন জেলে কেন থাকল সেটাই তো ওর সহ়কর্মীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রশ্ন করা উচিত। রাজনৈতিক স্বার্থে ছত্রধরকে ব্যবহার করা হয়েছিল, জেলে পাঠানো হয়েছিল আবার রাজনৈতিক কারণেই তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলো।'

আরও পড়ুন- ১১ বছর পর জামিনে মুক্ত ছত্রধর মাহাতো, কাজ করবেন তৃণমূলের সঙ্গে

ইঙ্গিতপূর্ণভাবে মুকুল এ দিন পুরনো কথা মনে করিয়ে বলেন. 'সেই সময়ের লালগড়ের ঘটনা আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। ছত্রধরের দাদা শশধরের মৃত্যু জানি, সুচিত্র মাহাতোর ঘটনাও জানি। ছত্রধর মাহাতোর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেদিনীপুর সার্কিট হাউসে যে বৈঠক হয়েছিল, সেটাও আমি জানি। ছত্রধর এতদিন কেন জেলে রইল সেই প্রশ্ন উত্তর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিতে হবে। ছত্রধরের কাঁধে পা দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহলে পা দিয়েছেন।'

বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরেই লালগড়ে ছত্রধরের বাড়িতে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। তাঁর অবশ্য দাবি, ছত্রধরকে তিনি দলে টানতে চাননি। বরং তাঁর পরিবারের পাশে থাকতেই সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। খোঁচা দিয়ে মুকুল বলেন, 'সরকারের আতিথেয়তার কী দাম ছত্রধর দেয়, সেটাই এখন দেখার।'