রেড জোন ও অরেঞ্জ জোন হওয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য বিতর্কের মাঝেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে স্বস্তির খবর। গত ২২ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েছিল যে ৬ আরপিএফ জাওয়ান, রবিবার সুস্থ হয়ে তারা ফিরলেন আশ্রয়ে।

গত এপ্রিল মাসে খড়্গপুরের আরপিএফ বিভাগ থেকে কুড়ি জন আরপিএফ জাওয়ান অস্ত্র আনতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে খড়্গপুরে ফিরে পরে বাড়িতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে বালেশ্বরে এক জাওয়ান করোনা সংক্রমিত বলে ধরা পড়েছিলেন। তারপরই খড়গপুর আরপিএফ ব্যারাকে থাকা বাকি জাওয়ানদের পরীক্ষা করতেই গত ২২ এপ্রিল একসঙ্গে ছয় জাওয়ানকে করোনা সংক্রমিত বলে ধরা পড়ে।  নিয়ম অনুযায়ী তাদের বড়মা হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এরপর ৩০ এপ্রিল আরও এক আরপিএফ জওয়ান করোনা সংক্রমিত বলে চিহ্নিত হয়।

রবিবার পুরনো সেই ৬ আরপিএফ জাওয়ান বড়মা হাসপাতাল থেকে করোনা মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার গিরিশ চন্দ্র বেরা বলেন-" ছয়জনই চিকিৎসার পর করোনা মুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঘাটালের অ্যাম্বুলেন্স চালকেরও শনিবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে। আরেকবার পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে সেও সুস্থ, করনা মুক্ত বলে বাড়িতে ফেরানো হবে।"

শুরু থেকে রবিবার পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে মোট ১১ জন করোনা সংক্রমিত বলে ধরা পড়েছিল। তারমধ্যে দাসপুরের একটি পরিবারের ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। এরপর রবিবার ৬ আরপিএফ জাওয়ান সুস্থ হয়ে ফিরলেন। বাকি রইল এম্বুলেন্স চালক ও আরো এক আরপিএফ জাওয়ান।

অন্যদিকে ক্যানসার রোগ উপশমে হাওড়ার নারায়না হাসপাতালে কেমো নিতে গিয়ে এক মহিলার ধরা পড়ল করোনা। তৎক্ষনাৎ তাকে স্থানান্তরিত করা হল সেখানকারই সঞ্জীবনী করোনা হাসপাতালে। আর তার জেরে তার পরিবার ও সংস্রবে থাকা লোকজনকে নিয়ে আসা হল করোনা পরিক্ষার জন্য। খড়্গপুর দুই নম্বর ব্লকের লছমাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কাঁচডিহা গ্রামে বাসিন্দা এক প্রৌড়া গত ১৮ এপ্রিল কেমো নিতে গিয়ে ভর্তি ছিলেন হাওড়ার নারায়না হাসপাতালে । জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশ চন্দ্র বেরা বলেছেন, দুই সপ্তাহেরও আগে ওই মহিলা হাওড়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এখন তার নমুনায় করোনা পজিটিভ এসেছে। তাই সতর্কতা হিসেবে ওই মহিলার সংস্রবে থাকা সকলেরই করোনা পরিক্ষা করা হবে। আপাতত তাদের নমুনা সংগ্রহ করে হোম কোয়ারেনটাইনেই রাখা হবে।