সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে স্পষ্ট জানালেন, এতে তৃণমূল বা বাংলার মানুষের কিছু যায় আসে না। বিজেপির কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি তুলোধনা করেন এসআইআর-এর রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়েও। 

শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে স্পষ্ট জানালেন, এতে তৃণমূল বা বাংলার মানুষের কিছু যায় আসে না। বিজেপির কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি তুলোধনা করেন এসআইআর-এর রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়েও।

'ক্ষোভ চাপা দেওয়া যাবে না'- কল্যাণ

কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং এই বিষয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, বহু প্রবীণ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে মানুষের পেটে লাথি মারা হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, রথযাত্রা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে মানুষের ক্ষোভ চাপা দেওয়া যাবে না—মানুষ সব বোঝে।

কী করবেন বাদ যাওয়ার ভোটাররা?

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাদের নাম বাদ গেছে তারা দ্রুত ফর্ম–৬ পূরণ করে জমা দিন। সব নাম সংগ্রহ করে বিষয়টি Supreme Court of India-এ পেশ করা হবে। তাঁর কথায়, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই জানিয়েছে তারা বিষয়টি দেখছে। ২১ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এসআইআর সংক্রান্ত কাজে বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর মতে, নথি ও তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন নেই—বিচারকদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এই প্রক্রিয়ায় ৭–১০ দিনের দেরি হওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসঙ্গ কেন্দ্রীয় বাহিনী

কল্যাণ আরও বলেন, নির্বাচনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। ভোটারদের অধিকার স্থগিত রাখা হলে তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী। জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজসহ সংশ্লিষ্ট বিচারকদের দ্রুত নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানান তিনি। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “কেন্দ্রীয় বাহিনী আসুক, আমাদের কিছু যায় আসে না। ওদের অনেক কিছু আছে, কিন্তু মমতার সঙ্গে জনতা আছে।”