শাহাজান আলি, মেদিনীপুর: দিন দুই আগেই একটি বারো টাকার ট্যাঙ্কার নিয়ে হলদিয়া থেকে বেরিয়েছিলেন। গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রদেশ।  কিন্তু রাস্তার মধ্যেই অপেক্ষা করছিল বিপদ। গাড়ির চালক মঙ্গল পাণ্ডে ও তাঁর খালাসি জানকী যাদব ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে যাচ্ছিল। পথের মধ্যেই পড়ে শলবনির জঙ্গল। সেই জঙ্গলে ঢোকার আগেই   তাঁদের ট্যাঙ্কারের ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। চালক আর খালাসিকে অচৈতন্য করে ট্যাঙ্করটি নিয়ে চম্পট দয়ে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার। তার ঠিক দুদিন পর চালক আর খালাসিকে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় শালবনির জঙ্গলে গবরু এলাকা। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দুজনকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে তাঁদের বেঁহুশ করে ট্যাঙ্কার নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। 

ট্যাঙ্কারের চালক আর খালাসির কথায়, শুক্রবার বেরিয়ে সন্ধার পরে ডেবরা ও খড়্গপুর চৌরঙ্গীর মাঝে কোনো ধাবাতে দুষ্কৃতিদের খপ্পরে পড়ে ৷ সেখানে তাদের মাদক জাতীয় কিছু খাইয়ে দেয় দুষ্কৃতিরা ৷ এরপর তাদের কোনো হুশ ছিলনা ৷  রবিবার সকালে স্থানীয় হাসিন্দাদের মারফত শালবনী থানার পুলিশ জানতে পারে -শালবনীর গবরুর জঙ্গলে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে এক যুবক অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে ৷ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে শালবনী হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিত্সার জন্য ৷ তার কাছ থেকে জানতে পারে অপর ব্যাক্তির কথা ৷ এরপর ওই জঙ্গলের আরও একটি স্থান থেকে অপর ব্যাক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ ৷ শালবনীতে প্রাথমিক চিকিত্সার পরে তাদের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় ৷ শুক্রবার রাত থেকেই তাঁরা জঙ্গলে বেহুশ হয়ে পড়েছিলেন বলে অনুমান ৷ তাদের সাথে কথা বলে পুলিশ পুরো ঘটনা জানার চেষ্টা করছে ৷ খোঁজ শুরু হয়েছে ট্যাঙ্কারটির ৷


ট্যাঙ্কারটির খোঁজে এখনও তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি পুলিশ খতিয়ে দেখছে ওই এলাকায় কোন কোনও দুষ্কৃতী দল ট্যাঙ্কার ছিনতাই করতে পারে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে ট্যাঙ্কারটি অন্য রাজ্যে পাচাল করা হয়েছে। তাই সেদিকেও তথ্য আদান প্রদান করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।