খোলাস্থানে মলত্যাগ মোটা টাকা  জরিমানা! এমনই নিদান গ্রাম পঞ্চায়েতর, দেওয়া হলো নির্দেশিকা লাগানো বোর্ড। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ৩ ব্লকের  আমশোল গ্রাম পঞ্চায়েত নির্মল গ্রাম পঞ্চায়েতের। শৌচাগার নির্মাণে প্রথম স্থান দখল করে পুরস্কারও পেয়েছে তৃণমূল পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েত। সেই পঞ্চায়েতই এবার খোলাস্থানে মলত্যাগ করলে জরিমানা করার নিদান দিল।

এই পঞ্চায়েতের পানশিউলিতেই গ্রামে খোলাস্থানে পঞ্চায়েত থেকে কয়েকটি বোর্ড বসিয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, 'পানশিউলি গ্রামের এই জায়গাটিতে কেউ মলত্যাগ করবেন না। কেউ মলত্যাগ করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হইবে।' অন্য একটি বোর্ডে পরিষ্কারভাবে লেখা হয়েছে,'পানশিউলি আইসিডিএস এবং এসএসকে এর নিকট এই জায়গাটিতে কেউ মলত্যাগ করিবেন না, কেউ মলত্যাগ করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হইবে। জানা গিয়েছে,  প্রতিটি পরিবারে শৌচাগার ও খোলাস্থানে মলমূত্র ত্যাগ বন্ধ হলে তবেই 'নির্মল' এর শিরোপা জোটে গ্রাম সংসদ থেকে পঞ্চায়েত এমনকী ব্লকস্তরে। 

স্থানীয় কয়েকজনের প্রশ্ন,সেক্ষেত্রে শিরোপা পাওয়া একটি গ্রাম পঞ্চায়েত কীভাবে এ ধরনের বোর্ড বসায়? তাহলে কোথাও  কিছু ঘাটতি থেকে গিয়েছে? জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েতের ১১ টি গ্রাম সংসদের মধ্যে একমাত্র পানশিউলি গ্রাম সংসদেই এ ধরনের বোর্ড বসানোর কারণ সংশ্লিষ্ট খোলা স্থানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মলত্যাগ করা আটকানো। পানশিউলি গ্রামসংসদ থেকে নির্বাচিত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য জয়ন্তীরানি সাহা বলেন, 'এই স্থানে মলত্যাগ করার অভিযোগ ছিল, তাই বোর্ডে জরিমানার কথা লিখে মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ আর সেই জায়গায় মলত্যাগ না করে। '

আমশোল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান কাদের খান বলেন, 'পঞ্চায়েতের প্রতিটি সংসদেই বোর্ড বসিয়ে এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কথা বলা হয়েছে, পানশিউলিতে কি বোর্ড বসানো হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব।' পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আকাশদীপ সিংহ বলেন, 'শৌচাগার নির্মাণ তো ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, তাই যতই নির্মল পুরষ্কার পাক, শৌচাগার নির্মাণ ও তার ব্যবহার, খোলাস্থানে মলমূত্র ত্যাগ না করা - এসব নিয়ে তো ধারাবাহিক প্রচার করতেই হবে। পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপির একমাত্র নির্বাচিত সদস্য গৌতম কৌড়ি বলেন, 'বাস্তবে নয়, সবই যে খাতায়কলমে হয়েছে তা এ থেকেই প্রমাণ।