বালাকোট এয়ার স্ট্রাইকে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ফের মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ। @Dflite নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এই মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪ ডিসেম্বর একটি ভিডিও টুইটারে পোস্ট করা হয়েছিল। যেখানে এক পাক কূটনীতিকের একটি সাক্ষাৎকারের অংশ তুলে ধরা হয়েছিল। ওই ভিডিও-তে জাফর হিলালি নামে ওই পাক কূটনীতিককে বলতে শোনা গিয়েছিল যে ২০১৯-এ বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার করা এয়ার স্ট্রাইকে ৩০০ জন মারা গিয়েছিল। এই ফেক ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও এই ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা যাচাই না করে পাকিস্তান সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কিন্তু, আসল ভিডিও ক্লিপ সামনে আসতেই পরিস্কার হয়েছে যে জাফর হিলালি-র ভিডিও-তে যে অডিও শোনা গিয়েছে তা আসলে কারচুপি করা হয়েছে। এটি একটি ফেক ভিডিও এবং ভিডিও-র অডিও প্রযুক্তির ভাষায় 'ডক্টর' করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই খবরের মিথ্যা পরিবেশনা স্বীকার করে নিয়েছে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। অনেকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এর জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেছে। 

 

পাক কূটনীতিক জাফর হিলালি-র যে ফেক ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছিল, তাতে দাবি করা হয় যে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে ৩০০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল। অ্যাজেন্ডা পাকিস্তান নামে একটি প্যানেল ডিসকাশনে জাফর এই মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছিল ওই ভিডিও-তে। এমনকী জাফর বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক-এ পাকিস্তান সরকারের অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেছিলেন ওই ফেক ভিডিও-তে দাবি করা হয়েছিল। 

ফ্যাক্ট চেক- আসল সত্যটা কী
অ্যাজেন্ডা পাকিস্তান নামে প্যানেল ডিসকাশন ভিত্তিক একটি ভিডিও ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০-তে ইউটিউবে আপলোড করা হয়। এই ভিডিও-তে উপস্থাপক ছিলেন আমির জিয়া। ভিডিও-টি-র ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডসে প্যানেলের অতিথি পাক কূটনীতিক জাফর হিলালি-র বক্তব্য শোনা গিয়েছে। এই বক্তব্যকে অনুসরণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আমির জিয়ার প্রশ্নের উত্তরে জাফর সাফ জানিয়েছেন যে, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক নিয়ে ভারত যে দাবি করছে তাকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়াটা পাকিস্তানের পক্ষে ঠিক হবে না। এরপরে কথোপকথনে জাফর জানিয়েছেন, ভারত এয়ারস্ট্রাইকের সময় বালাকোটের একটি মাদ্রাসাকে নিশানা করতে চেয়েছিল। ওই মাদ্রাসা-তে ৩০০ শিশু পড়াশোনা করত সেই সময়। তারমানে ভারতের উদ্দেশ্যই ছিল ৩০০ শিশু-কে হত্যা করা। জাফর এই ভিডিও-তে আরও দাবি করেছেন যে, ভারতের সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। শেষপর্যন্ত ভারতীয় বায়ুসেনা একটি ফাঁকা ফুটবল মাঠে বোমা বর্ষণ করে চলে যায়। এতে কিছু কাক মারা যায় এবং ১১টি গাছ ধ্বংস হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন জাফর। 

টুইটার অ্যাকাউন্টে জাফর হিলালি-র ব্যাখ্যা- 
এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হাতে জাফর হিলালি-র টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিও এসে পৌঁছেছে। সেখানে হিলালি জানিয়েছেন, বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে ৩০০ জন মারা গিয়েছে এমন কোনও দাবি তিনি করেননি। 

 

কবে হয়েছিল বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক- 
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সালে বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করেছিল ভারত। বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্যে প্রবেশ করে এই এয়ারস্ট্রাইক করেছিল। ভারত সরকার দাবি করেছিল বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকে ৩০০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। যদিও, ভারতের এই দাবি স্বীকার করেনি পাকিস্তান। ২০১৯ সালে ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতীয় সিআরপিএফ-দের কনভয়ে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়। যার দায় স্বীকার করে জয়স-ই-মহম্মদ। পাকিস্তানের মাটি থেকে এই আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সেই তথ্য একাধিকবার আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে পেশও করে ভারত। পুলওয়ামা ঘটনার জেরেই বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক সংঘটিত করেছিল ভারত।