মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ভারতের বিরুদ্ধে জম্মু ও কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভুরি ভুরি অভিয়োগ এনেছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি। সন্ধেবেলাই অবশ্য পাকিস্তানে সংখ্যামঘুদের উপর আক্রমণের পাল্টা অভিযোগে তাদের সব বক্তব্যই খারিজ করে দেয় ভারত। তবে বুধবার পাকিস্তানকে সবচেয়ে বড় লজ্জায় পড়তে হল গিলগিট-বাল্টিস্তান নিয়ে।

এদিন মানবাধিকার পরিষদে বলতে উঠে পাকিস্তানের দখলে থাকা গিলগিট-বাল্টিস্তানকে ভারতের অংশ বলে পাকিস্তানকে চরম লজ্জায় ফেললেন সেখানরকার সমাজকর্মী সেঙ্গে এইচ সেরিং। তিনি সাফ জানান গিলগিট-বাল্টিস্তান ভারতের অংশ। কিন্তু ভারত ও গিলগিট-বাল্টিস্তানের মাঝখানে ৭০ বছর ধরে প্রতিবন্ধক হয়ে আছে পাকিস্তান। মানাধিকার পরিষদের সদস্যদের এই বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা করার অনুরোধ জানালেন তিনি।

শুধু তাই নয় তিনি আরও অভিযোগ করেন গিলগিট-বাল্টিস্তানের ডেমোগ্রাফি বা জমবিন্যাস পাল্টে দিয়েছে পাকিস্তান। ১৯৮৪ সালে পাকিস্তান এই অঞ্চলের দখল করেছিল। সেই সময় থেকেই একটু একটু করে সেখানকার বাসিন্দাদের কোনঠাসা করে ফেলেছে পাক প্রশাসন বলে অভিযোগ করেন সেরিং। তিনি বলেন, 'কাশ্মীরিদের হয়ে ওকালতি করছে পাকিস্তান, অত নিজেরাই গিলগিট-বাল্টিস্তানের জনবিন্যাস পাল্টে দিয়েছে'।

বর্তমানে গিলগিট-বাল্টিস্তানকে পাকিস্তান তাদের অধিকৃত কাশ্মীরের অংশ বলে দাবি করে। এর পশ্চিমে রয়েছে খাইবার পাখতুনিয়া প্রদেশ। আর দক্ষিণে রয়েছে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর। বর্তমানে গিল্গিট বাল্টিস্তান পাকিস্তানের একটি প্রদেশও নয়, আবার আলাদা রাজ্যও নয়। এই অবস্থায় এলাকাটির উন্নয়নের সব কাজ আটকে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন সেরিং। লাদাখকে ভারত সরকার যেরকম একটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে বিকাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে গিলগিট-বাল্টিস্তানের ক্ষেত্রেও পাকিস্তান ভবিষ্যতে তাি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।