গত এক সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিনের সঙ্গে একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিল পাকিস্তান। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল তালিবানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্থাপন করা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পাকিস্তান  একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই বৈঠকে রাখা হল না ভারতকে। যে আফগানিস্তানের ওপর ভারতের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি সেই আফগানিস্তানের কূটনীতির টেবিলে নেই ভারত।

সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের ওপর থেকে ভারতের যে প্রভাব তা যেন ক্রমশই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে পাকিস্তান এই সুযোগটিকে রীতিমতো কাজে লাগাচ্ছে পাকিস্তান। প্রসঙ্গত, ভারতের প্রাক্তন আফগান রাষ্ট্রদূত যিনি পাশাপাশি আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও অন্যতম প্রতিযোগী সেই শাইদা আবদালি একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানিয়েছেন, গত ১৮ বছর ধরে ভারত আফগানিস্তানের ওপর যেভাবে নিজেদের প্রভাব শক্তিশালী করেছে, এই পরিস্থিতিতে যাতে সেই প্রভাব কোনওভাবেই নষ্ট না হয়, সেই বিষয়টি ভাল করে নজরে রাখা দরকার বলে মত প্রকাশ করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের ওপর ভারতের প্রভাব যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে অদূর ভবিষ্যতে একটা বিরাট  আঘাত আনবে। 

পাশাপাশি  এই শান্তি চুক্তিতে ভারতকে যেমন বাদ দেওয়া হয়েছে, তেমনি এই প্রসঙ্গে ভারতের কোনও মতামতও পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আফগানিস্তানেরল মার্কিন রাষ্ট্রদূত, জন বাস জানিয়েছেন, যতদিন না এই শান্তি প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনও স্থগিত রাখা হতে পারে। প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেওর ভারত সফরকালে ভারতের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আনা হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বারংবার দাবি করেছিলেন শান্তি প্রক্রিয়া চললেও, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হয়ে যাওয়া উচিত। এমনকী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া না হওয়া পর্যন্ত আফগানিস্তান যদি কোনও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করে তাহলে তারও বিরোধিতা করেছিল ভারত।   

গত সপ্তাহে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তালিবান গোষ্ঠী একজোট হয়ে ৮ পয়েন্টের একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এই চুক্তিতে যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে তার কোনও রকম কাট-ছাট করা হবে না। কারণ এর একটাই লক্ষ্য, তালিবানি জঙ্গিদের আক্রমণে সাধারণ মানুষের যাতে আর কোনও ক্ষতি না হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করাই ছিল অন্যতম লক্ষ্য। প্রসঙ্গত, গত ১৮ বছর ধরে আফগানিস্তানে ভারত যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে তাতে আফগানিস্তানে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। আফগানিস্তানে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অমর সিনহা জানিয়েছেন,ভারতকে এই বিষয়ে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। কারণ জাতীয়বাদী আফগানরা তাঁদের চিন্তাভাবনার দিকটি বিচার করা যায়, তাহলে বলতে হয় ভারত একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। সুতরাং ভারতের এই ভাবমূর্তি কোনওভাবেই নষ্ট করা যাবে না।